অর্থের বিনিময়ে বিদেশফেরতদের ছেড়ে দিচ্ছে হোটেল কর্তৃপক্ষ

ছবিঃ সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়ম অনুযায়ী করোনার ভ্যাকসিন না নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১২টি দেশ থেকে বাংলাদেশে আসলে হোটেলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তবে এ নির্দেশ না মেনে টাকা নিয়ে যাত্রীদের ছেড়ে দিচ্ছে কোয়ারেন্টিনের জন্য সরকার-নির্ধারিত বেশিরভাগ হোটেল। অভিযোগ রয়েছে কোনও হোটেল আবার বিমানবন্দর থেকেই বিদেশফেরতদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে ১৪ দিন হোটেল থাকার ভুয়া বিল। নজরদারি না থাকায় বেশিরভাগ হোটেলেই চলছে এমনটা।

রাজধানীর উত্তরার ১১ নং সেক্টরের গ্র্যান্ড লেক ভিউ হোটেলটিতে একদিনও কোয়ারেন্টিনে থাকা লাগে না বিদেশফেরতদের। যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকেই বাড়িতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে যাত্রীকে ১৪ দিনের হোটেল বুকিংয়ের ডকুমেন্ট বানিয়ে দেন কর্তৃপক্ষ। সেটা বিমানবন্দরে দেখালে কেউ সন্দেহ করবে না। বিমানবন্দরে থেকেই যাত্রী নিয়ে চলে যেতে পারবে বলে জানান তারা। এভাবে চলছে রাজধানীর বেশিরভাগ হোটেল।

বিদেশফেরত এক যাত্রীর স্বজন বলেন, পরিচিত একজন জুনে বিদেশ থেকে আসে। তখন তাদের তিনদিন কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা ছিল। দ্য ডেইজ হোটেল বুক করে ঢাকায় আসে তারা। হোটেলে যাওয়ার পর করোনার টেস্ট করাতে তাদের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে বলা হয় আপনারা বাড়িতে চলে যান, হোটেলে থাকা লাগবে না।

অনেক হোটেল যাত্রীদের বাড়ি পাঠাতে তারা যাত্রীর পাসপোর্ট হোটেলেই রেখে দেয়। যাতে কোনও সংস্থা অভিযান চালালে তারা পাসপোর্ট দেখিয়ে বলতে পারে, এ যাত্রী হোটেলেই আছেন। মূলত যাত্রী পাসপোর্ট রেখেই চলে যান বাড়িতে। চুক্তি হয় ১৪ দিন পর এসে পাসপোর্ট নিয়ে যাবেন কিংবা তাকে কুরিয়ার করে সেটা পাঠিয়ে দেবে হোটেল কর্তৃপক্ষ।



বেবিচকের নিয়ম অনুসারে, ১২টি দেশ থেকে ফিরে এলে ১৪ দিন সরকার নির্ধারিত হোটেলে নিজ খরচে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ফ্লাইটে ওঠার আগেই হোটেল বুকিং করতে হবে। দেশগুলো হচ্ছে- আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, জর্জিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে। তবে কেউ যদি করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে আসেন, তাকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। তিনি বাড়িতে গিয়ে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকবেন।

১১ জুলাই দুবাই থেকে এসেছিলেন দুজন। তারা কোয়ারেন্টিনের জন্য ওঠেন উত্তরার মনসুন ইন হোটেলে। কয়েক ঘণ্টা পরই তারা সিলেট যেতে হাজির হন বিমানবন্দরে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিট দেখালেই ধরা পড়েন তারা। পরে দুই যাত্রীকে বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী আফরোজ দুজনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে আবার হোটেলে পাঠান। হোটেলটির এক প্রতিনিধিকেও থানায় সোপর্দ করা হয়।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ বলেন, ‘কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। আমাদের লোকজন খোঁজখবর নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেবিনেটেও জানানো হয়েছে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Comment

Your email address will not be published.