আয়ারল্যান্ডের স্টেডিয়ামে আয়োজিত হলো ঈদের নামাজ

আয়ারল্যান্ডের স্টেডিয়ামের ঈদ নামাজ

করোনার এই সময়ে শারীরিক দূরত্ব মেনে ঈদের জামাত আদায় করতে এবার ব্যতিক্রমী এক পথে হেটেছে আয়ারল্যান্ড। দেশটির ডাবলিনে বসবাসরত মুসলিমদের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ক্রোক পার্ক স্টেডিয়াম। 

জানা গেছে, করোনার লকডাউনের পর এই প্রথম দেশটিতে মুসলমানদের বড় কোনও জমায়েত হলো এই নামাজের মধ্য দিয়ে। যদিও ধারণা করা হয়েছিল ঈদের নামাজে ৫০০ জন মুসল্লি অংশ নেবেন। তবে শেষ পর্যন্ত ২০০ জন অংশগ্রহণ করেছেন।

ব্যবস্থাপনা কমিটির কারেন কিরওয়ান বলেন,

মুসলিম বিশ্বের হৃদস্পন্দন হলো কাবা। আর ক্রোক পার্ক আয়ারল্যান্ডে আইরিশদের হৃদস্পন্দন।

মুসলিমদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়েছে দেশের প্রশাসনকে

এই স্টেডিয়ামের বিষয়ে ঐতিহাসিক টিম ক্যারে বলেন,

ক্রোক পার্কটি জাতীয়তাবাদী, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংস্থার দৈহিক অভিব্যক্তি। ইতিহাসে সঙ্গেও তা জড়িয়ে আছে।

যদিও ঈদের নামাজ আয়োজনের ফলে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের একাংশ বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ইসলামবিরোধী প্রতীকসহ হাজির হয়েছিলেন। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের বাইরে বর্ণবাদবিরোধী পাল্টা বিক্ষোভও হয়েছে।

অন্যদিকে ঈদের নামাজ আয়োজন বন্ধের জন্য একটি অনলাইন পিটিশনেরও আয়োজন করা হয়। এতে ২৪ হাজার স্বাক্ষর পড়েছিল। একটি অভিবাসীবিরোধী অ্যাক্টিভিস্টদের সংগঠন এই পিটিশন তৈরি করে। এই পিটিশনে ঈদের জামাতের আয়োজনকে খ্রিস্টান সংস্কৃতির উপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।



মুসলিম শিশুর হাতে আয়ারল্যান্ডের পতাকা

তবে ঈদের জামাতে উপস্থিত হওয়া মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেছেন আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ নেতা ডিয়ারমুইড মার্টিন। তার সঙ্গে অ্যাংলিকান ও ইহুদিদের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। তারা অবশ্য এই স্টেডিয়ামে ঈদ উদযাপনের সমর্থন জানিয়েছেন।

যদিও ঈদের জামাত আয়োজনের বিষয়ে প্রথম ঘোষণার পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে একটি ভুল খবর প্রকাশিত হয়, এর জের ধরেই সমস্যার শুরু। এতে বলা হয়েছিল, কোরবানির অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামে পশু জবাই হবে- তবে দ্রুতই এই দাবি খারিজ হয়ে যায়।

ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.৩৩ শতাংশ মুসলিম। সংখ্যায় এই হিসাব ৬৩ হাজার ৪০০ জনের।

 

৬ thoughts on “আয়ারল্যান্ডের স্টেডিয়ামে আয়োজিত হলো ঈদের নামাজ”

Leave a Comment

Your email address will not be published.