ঢাকা, ১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার
গেম অব থ্রোন্স; কেন এত আলোচিত এই সিরিজ?

গেম অব থ্রোন্স; কেন এত আলোচিত এই সিরিজ?

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
গেম অব থ্রোন্স
২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই ‘গেম অব থ্রোনস’ ডেভিড বেনিওফ ও ডি. বি. ওয়েস নির্দেশিত একটি মার্কিন কাল্পনিক নাট্যধর্মী টেলিভিশন ধারাবাহিক। এটি মূলত জর্জ আর. আর. মার্টিন রচিত ফ্যান্টাসি উপন্যাস ধারাবাহিক আ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার (A song of Ice and Fire) অবলম্বনে নির্মিত, যার প্রথম উপন্যাসটি হল ‘আ গেম অব থ্রোনস’
এই পুরো ধারাবাহিকটি আইসল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, স্কটল্যান্ড, মাল্টা, মরক্কো, স্পেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিত্রায়িত হয়েছে।
এই ধারাবাহিক এইচবিও চ্যানেলে প্রথম প্রচারিত হয় এবং এর সপ্তম মৌসুম শেষ হয় গত ২৭ আগস্ট ২০১৭। মাঝে দীর্ঘ এক বছরের বিরতির পর অষ্টম মৌসুম ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল শুরু হয়েছে এবং এই মৌসুম দিয়েই এই ধারাবাহিকের ইতি ঘটেছে।
ধারাবাহিকের মূল গল্পটি কাল্পনিক মহাদেশ ওয়েস্টরস ও এসস-এর পটভূমিতে আবর্তিত। ‘গেম অব থ্রোনস’-এর কয়েকটি কাহিনিসূত্র ও বিশাল সংখ্যক কুশীলব (cast) রয়েছে। তবে এতে তিনটি প্রধান গল্প আছে, যাকে ঘিরেই ধারাবাহিকটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

 

  • প্রথমটি সাত রাজ্যের লৌহ সিংহাসন, যা দখল বা এর থেকে স্বাধীনতা লাভের লক্ষ্যে কয়েকটি অভিজাত রাজবংশের মধ্যে মৈত্রী ও দ্বন্দ্বের গল্প তৈরি হয়।
  • দ্বিতীয় গল্পটি সর্বশেষ শাসনকারী রাজবংশের শেষ উত্তরসূরিকে কেন্দ্র করে, যাকে নির্বাসিত করা হয় এবং সে সিংহাসন দখল করতে বদ্ধপরিকর।
  • তৃতীয় গল্পে রয়েছে নাইট্‌স ওয়াচ, একটি দীর্ঘকাল স্থায়ী ভ্রাতৃত্ব যারা দেয়ালের উত্তরের বন্য মানুষ ও কিংবদন্তি জীবদের প্রাচীন এক হুমকির হাত থেকে এই রাজসিংহাসনকে প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত।
এই ধারাবাহিকে ব্যবহৃত সামগ্রী
এই পুরো ধারাবাহিকের প্রতিটি মৌসুমে নতুন নতুন চরিত্র প্রবেশ করে, সেই সাথে এই ধারাবাহিকের ছোট বড় সবগুলো চরিত্রই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই কলা-কুশলীদের তালিকা দেওয়া হলো-
  • লর্ড এডার্ড “নেড” স্টার্ক (শন বিন) স্টার্ক পরিবারের প্রধান। এই পরিবারের সদস্যরা মূল গল্পে সর্বত্র বিরাজমান। নেড ও তার স্ত্রী ক্যাটলিন স্টার্কের (মিশেল ফেয়ারলি) পাঁচ সন্তান। বড় পুত্র রব স্টার্ক(রিচার্ড ম্যাডেন), তার পরে কন্যা সানসা স্টার্ক (সোফি টার্নার), আরিয়া স্টার্ক (মেইজি উইলিয়ামস), ব্রান স্টার্ক (আইজ্যাক হেম্পস্টিড-রাইট) এবং সর্বকনিষ্ঠ রিকন স্টার্ক (আর্ট পার্কিনসন)। নেডের অবৈধ সন্তান জন স্নো (কিট হ্যারিংটন) এবং তার বন্ধু স্যামওয়েল টার্লি (জন ব্র্যাডলি) লর্ড কমান্ডার জেওর মোরমন্টের (জেমস কসমো) অধীনে নাইট্‌স ওয়াচে দ্বায়িত্ব পালন করে। পরে স্নো উইন্টারফেলের রাজা এবং স্যাম সিটাডেলে দ্বায়িত্বরত। প্রাচীরের উত্তরে বসবাসকারী ওয়াইল্ডলিংসের মধ্যে রয়েছে গিলি (হান্নাহ মুরে), যে পরে স্যামের স্ত্রী, এবং যোদ্ধাদের মধ্যে রয়েছে টরমুন্ড জায়ান্টসবেন (ক্রিস্টোফার হিভজু) এবং ইগ্রিত (রোজ লেসলি)।
  • কলা-কুশলীদের একাংশ

  • স্টার্ক পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন নেডের রক্ষী থিয়ন গ্রেজয় (আলফি অ্যালেন), তার সামন্ত রুজ বোল্টন (মাইকেল ম্যাকএলহাটন), বোল্টনের অবৈধ পুত্র রামসি বোল্টন (ইউয়ান রিওন)। রবের প্রেমিকা ও স্ত্রী তালিসা মাইগার (উনা চ্যাপলিন), আরিয়ার বন্ধু কামারের শিক্ষানবিশ এবং রবার্টের অবৈধ পুত্র গেন্ড্রি (জো দেম্পসি) ও গুপ্তহন্তা জাকেন হগার (টম অলাসচিহা), এবং ক্যাটলিন ও পরে সানসার রক্ষী নারী যোদ্ধা টার্থের ব্রিয়ান (গোয়েন্ডোলিন ক্রিস্টি)।

রাজধানী কিংস ল্যান্ডিংয়ের চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নেডের বন্ধু রাজা বরার্ট ব্যারাথিয়ন (মার্ক অ্যাডি) এবং রাণী সার্সি ল্যানিস্টার (লিনা হিডি), যে তার জমজ ভাই স্যার জেমি ল্যানিস্টার (নিকোলাই কোস্টা-ওয়াল্ডাউ) তার প্রেমিক রূপে গ্রহণ করে। রাণী সার্সি তার ছোট ভাই বামনাকৃতির টিরিয়ন ল্যানিস্টারকে (পিটার ডিংকলেজ) ঘৃণা করে। টিরিয়ন জফ্রি রাজা হলে তার প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় এবং পরে জফ্রিকে হত্যার দায়ে এসোসে পালিয়ে যায় ও সেখানে রাণী ডিনেরিসের প্রতিনিধিত্ব করে। ল্যানিস্টারদের পিতা লর্ড টাইউইন ল্যানিস্টার (চার্লস ড্যান্স) ল্যানিস্টারদের প্রধান। সার্সির দুই ছেলে জফ্রি ব্যারাথিয়ন (জ্যাক গ্লিসন) এবং টমেন ব্যারাথিয়ন (ডিন-চার্লস চ্যাপম্যান)। জফ্রির রক্ষী মুখ-পোড়া যোদ্ধা স্যান্ডর

  • “দ্য হাউন্ড” ক্লিগেন (ররি ম্যাককেন) এবং তার ভাই নাইট গ্রেগর “দ্য মাউন্টেন” ক্লিগেন (হাফথোর ইউলিউস পয়োঁসন)।
  • ব্যবহৃত পোশাক

  • রাজা রবার্টের পরামর্শদাতা পরিষদের মধ্যে রয়েছে পিটার “লিটলফিঙ্গার” বেলিশ (এইডান গিলেন), নপুংসক গোয়েন্দা ভ্যারিস (কনলেথ হিল)। রবার্টের ভাই স্ট্যানিস ব্যারাথিয়ন (স্টিফেন ডিলান) এবং তার পরামর্শদাতা বিদেশি অগ্নিপূজারি মেলিসান্দ্রে (কারিস ভান হাউটেঁ) ও সাবেক চোরাকারবারি ও বর্তমান নাইট স্যার ডেভস সিওর্থ (লিয়াম কানিংহাম)। ধন্যাট্য টাইরেল পরিবারের মার্জারি টাইরেল(নাটালি ডোরমার)। রাজধানীর ধর্মীয় নেতাদের প্রধান হাই স্প্যারো (জনাথন প্রাইস)।
  • অন্যদিকে মূল রাজবংশের শেষ রাজার দুই সন্তান ভিসেরিস টার্গেরিয়ান (হ্যারি লয়েড) এবং ডিনেরিস টার্গেরিয়ান (এমিলিয়া ক্লার্ক) তাদের জীবন নিয়ে পালাচ্ছে এবং সিংহাসন পুনঃপ্রাপ্তির জন্য দল গঠন করছে। ডিনেরিসের যাযাবর ডথোরাকি সর্দার খাল ড্রগোর (জ্যাসন মোমোয়া) সাথে বিবাহ হয়। ড্রগোর মৃত্যুর পর তার চিতা থেকে সে তিনটি ড্রাগন নিয়ে বের হলে ডথোরাকিরা তার অনুগামী হয়। ডিনেরিসের অনুগামীদের মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ হল রাজধানী থেকে নির্বাসিত নাইট স্যার জোরাহ মোরমন্ট (ইয়ান গ্লেন), নাথের বহুভাষী মিসান্দেই (নাথালি এমানুয়েল) এবং যোদ্ধা দারিও নাহারিস (মিখেল হুইসমান)।

 

ব্যবহৃত পোশাক

 

  • এই চরিত্রগুলোই এই উপন্যাসটির বাস্তব রূপদান করেছে টেলিভিশনের পর্দায়। এই পুরো সিরিজটি অসংখ্য পুরস্কার জয়ের পাশাপাশি, মন জয় করেছে দর্শক-সমালোচকসহ সকল ধারাবাহিক প্রেমীদের। ‘গেম অব থ্রোনস’ ধারাবাহিকটি শুরু হওয়ার পর থেকে ৪৭টি প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার, ৫টি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার, এবং একটি পিবডি পুরস্কার লাভ করে।
হোয়াইট হাউজে সেই ‘থ্রোন’ বা সিংহাসন

এমনকি এটি টেলিভিশন ধারাবাহিকের জন্য সর্বোচ্চ এমি পুরস্কার অর্জনের রেকর্ড গড়ে, যা ফ্রেজিয়ার (৩৭টি পুরস্কার অর্জন করে) থেকে এগিয়ে। ২০১৩ সালে রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা গেম অব থ্রোনস-কে টেলিভিশনের ইতিহাসে “রচিত সেরা ধারাবাহিক” তালিকায় ৪০তম স্থান প্রদান করে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে দ্য হলিউড রিপোর্টারের “সর্বকালের সেরা টিভি অনুষ্ঠান” এর তালিকায় চতুর্থ স্থানের পাশাপাশি, ২০১৬ সালে প্রকাশিত এম্পায়ার-এর “সর্বকালের সেরা ৫০ টিভি অনুষ্ঠান” তালিকায় সপ্তম স্থান এবং রোলিং স্টোন-এর “সর্বকালের সেরা টিভি অনুষ্ঠান” তালিকায় ১২তম স্থানও এই ধারাবাহিকের দখলে।

‘গেম অব থ্রোনস’ তার শেষ মৌসুমে বাকি ৭ মৌসুমের জনপ্রিয়তাকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছিল কিনা তা যদিও তর্কের কাতারে পড়বে। তবে দর্শকশ্রেণি থেকে নিন্দুক, সকলের মনে যে জায়গা করে নিয়েছে এই  টেলিভিশন সিরিজ তা বলার অপেক্ষার রাখেনা।

শেয়ার করুন

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

৩ thoughts on “গেম অব থ্রোন্স; কেন এত আলোচিত এই সিরিজ?”

  1. I happen to be writing to make you understand what a useful experience our princess went through visiting yuor web blog. She realized too many things, with the inclusion of what it is like to possess an incredible teaching style to make the rest without problems understand various very confusing topics. You undoubtedly surpassed visitors’ expected results. Thanks for supplying those warm and helpful, trustworthy, revealing not to mention unique tips on your topic to Tanya.

  2. I am also commenting to let you know of the helpful encounter my friend’s daughter found reading through your web page. She figured out numerous issues, not to mention what it’s like to have an amazing giving mood to have most people really easily know selected impossible subject areas. You really exceeded our own expectations. Many thanks for imparting the invaluable, safe, explanatory and even easy thoughts on the topic to Janet.

  3. I’m just commenting to let you be aware of of the extraordinary discovery my cousin’s daughter enjoyed going through your site. She discovered lots of issues, most notably how it is like to have a very effective giving mindset to have many others just gain knowledge of certain extremely tough matters. You really did more than our desires. Many thanks for distributing the important, healthy, educational and as well as easy thoughts on the topic to Gloria.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মালয়েশিয়ায় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট পাবেন বাংলাদেশিরা
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে ভারত, আবেদন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
দেশে আটকে পরা কর্মীদের মালয়েশিয়ায় ফেরার সুযোগ
প্রবাসীর দেশে ফেরার আনন্দ
কাতারে প্রবাসীদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৩ হাজার টাকা
সৌদিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন
সৌদিতে প্রবাসীদের ‘কাফালা পদ্ধতি’ পরিবর্তন শুরু
করোনাকালে দেশে ফিরেছেন ৫০ হাজার নারী গৃহকর্মী
দুনিয়া দেখি ‘প্রবাস কথা’য়
1
ডেনমার্কে রাজার বাড়ি ‘ফ্রেডরিকসবর্গ প্রাসাদ’
ডেনমার্কে রাজার বাড়ি ‘ফ্রেডরিকসবর্গ প্রাসাদ’
2
১২ তলা জাহাজে ডেনমার্ক থেকে নরওয়ে
১২ তলা জাহাজে ডেনমার্ক থেকে নরওয়ে
3
ইতালীর অপরূপ ভাল দি ফুনেস। চোখ ধাঁধিয়ে দেয়ার মতো সুন্দর জায়গা
ইতালীর অপরূপ ভাল দি ফুনেস। চোখ ধাঁধিয়ে দেয়ার মতো সুন্দর জায়গা
4
প্রবাস কথা থিম সং
প্রবাস কথা থিম সং
5
ইতালিতে ভিন্ন পরিবেশে গানের আয়োজন
ইতালিতে ভিন্ন পরিবেশে গানের আয়োজন
6
ফিনল্যান্ড । বরফের রাজ্যে যখন রোদ হাসে
ফিনল্যান্ড । বরফের রাজ্যে যখন রোদ হাসে
Scroll to Top
দেশভিত্তিক সংবাদ