দালালের ফাঁদে পড়ে ইতালির পথে নিখোঁজ ৩ বন্ধু

ছবিঃ সময়ের কণ্ঠস্বর

বিদেশে ভালো বেতনে কাজের আশায় যেকোন উপায়েই হোক স্বপ্নের দেশ ইতালিতে যেতে চেয়েছিল ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৩ তরুণ। পাশের গ্রামের দুই প্রবাসী যুবকের সাথে এজন্য ৩০ লাখ টাকায় চুক্তিও হয়। এরমধ্যে অভিভাবকেরা ২৪ লাখ টাকা দিয়েছে দালালদের। বাকি টাকা দেয়ারও প্রস্তুতি চলছিল।

কিন্তু এরইমধ্যে লিবিয়ায় একটি ঘরে বন্দি হওয়ার পর নৌকায় সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে গত এক সপ্তাহ তাদের কোন খোঁজ নেই। এ নিয়ে পরিবারের লোকেরা অজানা আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

নিখোঁজ এই তিন তরুণ হলো, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের বাবুর কাইচাইল গ্রামের ফারুক মাতুব্বরের ছেলে মঈন মাতুব্বর ওরফে ফয়সাল (১৮), ইউনুস শেখের ছেলে সামিউল শেখ (১৯) ও মাজেদ মিয়ার ছেলে নাজমুল মিয়া (২২)।

গত ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে বিমানযোগে ফয়সাল, নাজমুল ও সামিউলকে নিয়ে যায় লিবিয়ার একটি শহরে। তারপর তাদের দ্রুতই ইতালি নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানায় দালালেরা। এজন্য বাকি ৬ লাখ টাকা রেডি রাখতে বলে।

সর্বশেষ ২৭ জানুয়ারি রাত ১০ টার দিকে ফয়সালের সাথে তার কথা হয়। এসময় ফয়সাল ও তার বন্ধুরা ভয় পাচ্ছিল। ”আমাদের সাগরের পাড়ে নিয়ে আসছে। মনে হয় নৌকায় উঠাবে। তোমরা দোয়া কইরো আমাদের জন্য।” ছেলের কন্ঠে সর্বশেষ এ কথাই শুনতে পেয়েছেন ফারুক।

এভাবে ইতালি যেতে লিবিয়ায় আটকদের একজন নাজমুল৷ তার ভাই সম্রাট বলেন, শওকত ও রাসেল তার ভাইদের বডি কন্টাক্টে ইতালি নিয়ে যাবে বলেছিল। বডি কন্টাক্ট মানে কি? এর জবাবে সম্রাট বলেন, লিবিয়া যাওয়ার পথে যতবার ধরা খাবে ততবার ওরা ফেরত আনবে। ওদের বডি যেকোন উপায়ে ইতালি পৌছে দেবে। ওদের হান্ড্রেড পারসেন্ট ইতালি নিয়ে যাওয়ার দ্বায়িত্ব তাদের। যতো টাকাই লাগুক এতে।

সম্রাট জানায়, তিনমাস আগে লিবিয়ার শহরে গেছে। তারপর গেম ঘরে রাখছে। আমাদের একটা আত্মবিশ্বাস ছিলো যেহেতু ওরা (দালালেরা) ওই দেশে আছে তাই ওরা হয়তো ওদের ইতালি নিতে পারবে। সর্বশেষ তার ভাই তাদের বলেছিল, গেম ঘর থেকে সাগর পাড়ে নিয়ে যাইতেছে। ১ থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে বোটে উঠাবে। আমরা ওদের ভরসা দেই। আল্লাহর নামে বোটে উঠতে বলি। কোন সমস্যা হবেনা তাও বলি।

সম্রাট জানান, ২৭ জানুয়ারির পর প্রথমদিকে দালালরা এমনও বলেছিল যে, তার ভাইয়েরা ইতালি পৌঁছে গেছে। বাকি টাকা রেডি রাখতে বলছিল। শেষে বলেছে, ওরা মাল্টা থেকে ধরা খাইছে। থামছা থামছা জেলে আছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওরা নিশ্চিত করে যে, ওরা তিনজন থামছা থামছা জেলে আছে। এরপর ওরা সামিউলের একটা ভয়েস রেকর্ড পাঠায়। যেখানে সামিউল বলছে, “আমরা কষ্টে আছি, আমাদের বাঁচাও”।

সম্রাট বলেন, শুক্রবার ওই তিন যুবকের সাথে দেশে পরিবারের লোকদের কথা বলিয়ে দেবে বলেছিল। এদিন তারা পাশের ছোট নাউডুবি গ্রামে দালাল শওকত ও রাসেলের বাড়িতে যান। সেখানে যেয়ে দেখেন ওদের বাড়িতে কেউ নেই। এমনকি গরু ছাগল হাস মুরগি কিছুই নাই।

ফারুক মাতুব্বর এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি থানার ওসিকে জানিয়েছেন। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এ বিষয় নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র – সময়ের কণ্ঠস্বর

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.