বিনোদে ভাসছে ফেসবুক-টুইটার; কে এই বিনোদ?

বিনোদ এর কাহিনী

পুরো পৃথিবী করোনায় জর্জরিত। সবকিছুই যেন থেমে গেছে, সরে গেছে তার স্বাভাবিক অবস্থা থেকে। তবে ফেসবুক-ইউটিউবের এই যুগে হুট করে পুরো দক্ষিণ এশিয়া যেন সটকে পড়েছে করোনার মত গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয় থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে কোনো সংবাদ নেই, নেই কোনো সাড়া জাগানো আলোচনা-সমালোচনা, পাওয়া যাবেনা বিনোদনমূলক নতুন তথ্যও, শুধু আছে একটি ছোট্ট শব্দ ‘বিনোদ’ (BINOD)। কিন্তু কি এই বিনোদ? এর উৎপত্তিই বা কোথায়?

যেখানে ‘ বিনোদ (binod)’ এর সূত্রপাত

এই বিনোদের শুরুটা কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতেই। ‘স্লে পয়েন্ট’ (Slayy Point) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল গত ১৫ জুলাই। এই ভিডিওতে অভুডায়া এবং গৌতমী কাওয়াল ভারতীয় ইউটিউব ভিডিওর কমেন্ট বক্সকে ‘রোস্ট’ করার সিদ্ধান্ত নেন।



পে-টিএম এর নাম বদলে রাখা হয়েছিল বিনোদ

প্রকাশিত সেই ইউটিউব ভিডিওর ‘টাইটেল’ বা শিরোনাম ছিল “কেন ভারতীয় মন্তব্য বিভাগ আবর্জনা (বিনোদ)” বা “Why Indian Comments Section is Garbage (BINOD)”। এই ভিডিওতে ‘স্লে পয়েন্ট’ ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারদের কাছ থেকে পাওয়া কমেন্টগুলো দেখানো হয়। সেখানে তুলে ধরা আজব মন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল ‘বিনোদ’। দেখা গেছে চ্যানেলের সবগুলো ভিডিওর কমেন্ট বক্স জুড়ে ছিল ‘বিনোদ’।

কে এই ‘বিনোদ’ (binod)?

‘বিনোদ’ মূলত একজনের নাম। বিনোদ ঠাকুর নামের এই ব্যক্তির এক ইউটিউব একাউন্ট আছে। ‘বিনোদ থারু’ নামের সেই একাউন্টে নেই কোনো ভিডিও বা কিছু। অথচ পুরো ইউটিউব জুড়ে তার ক্রিয়াকলাপ একটি কাজেই সীমাবদ্ধ, আর তা হলো ‘বিনোদ’ লিখে মন্তব্য বা কমেন্ট করা।

স্লে পয়েন্টের ভিডিওতে তারা অন্যান্য শব্দের জায়গায় ব্যবহার করেছিলেন ‘বিনোদ’, তাতেই কেল্লাফতে।

টিন্ডারও করেছে এই বিনোদ নিয়ে টুইট

বিনোদ এখন ব্র্যান্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বিনোদ। এই বিনোদ এতটাই ভাইরাল হয়েছে যে মিমস, টুইট, হ্যাশট্যাগ, কমেন্ট সব ভেসে গেছে এই এক শব্দেই। শুধু টুইটারই নয়, ফেসবুক, ইউটিউবও গা ভাসিয়ে এই বিনোদের জোয়ারে। কেউ জেনে, কেউ বা না জেনে কমেন্ট করেই যাচ্ছেন ‘বিনোদ’।

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় কোম্পানি ‘পে-টিএম’ (Paytm) এই ভাইরাল হওয়া গল্পকে আমলে নিয়ে নিজেদের অফিশিয়াল টুইটারের নামকে ‘বিনোদ’ এ পরিবর্তন করে ফেলেছে।

বিনোদের মিমে ভরপুর ফেসবুক-টুইটার

বাদ যায়নি জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারও। টিন্ডারের ভারতীয় অফিশিয়াল টুইটার একাউন্ট তাদের একাউন্টে বিনোদকে নিয়েই করেছে বেশ কয়েকটি টুইট।

একই দলে যোগ দিয়েছে ‘এয়ারটেল ইন্ডিয়া’ও। একই সাথে নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়ার মত একাউন্টও মিমস তৈরি করে শেয়ার দিয়েছে নিজেদের টুইটারে।

বিনোদ কাহিনী সেই ১৫ জুলাই শুরু হলেও থামেনি এখনো। ‘binod’ থেকে বাংলায় ‘বিনোদ’ চলে এলেও থামেনি কিছুই। কবে নাগাদ থামবে এই ভাইরাল হওয়ার প্রবৃত্তি তা জানেনা বিনোদও।

 

৬ thoughts on “বিনোদে ভাসছে ফেসবুক-টুইটার; কে এই বিনোদ?”

  1. Pingback: gay muscle dating sites

Leave a Comment

Your email address will not be published.