বৈরুতে বিস্ফোরণ; তোপের মুখে লেবানন সরকারের পদত্যাগ

পদত্যাগ করলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

করোনার এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বৈরুত বন্দরে গত মঙ্গলবারের সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা ২ শতাধিক ছাড়িয়ে যাওয়ার পরই জনতার তোপের মুখে পড়ে দেশটির সরকার। জনতার বিক্ষোভ ও অসন্তোষের জের ধরে অবশেষে পদত্যাগ করেছে লেবাননের সরকার।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব লেবাননের রাষ্ট্রীয় টিভিতে সরকারের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য পদত্যাগ করলেও, জনগণের চাপ বাড়তে থাকে দেশটির মন্ত্রিসভার ওপর। লেবাননের বাসিন্দাদের বেশিরভাগের দাবি নেতাদের অবহেলা ও দুর্নীতির কারণেই এমন ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে বৈরুত।





এই বিস্ফোরণের ঘটনায় লেবাননের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়ই বৈরুত বন্দরে মজুদকৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটকে দায়ী করেন। ২ হাজার ৭৫০টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিরাপদে না রাখায় এবং মজুদ ব্যবস্থায় গুরুত্ব আরোপ না করায় আগুন ধরে গিয়েছিল এই মজুদকেন্দ্রে। এতে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে।

বিস্ফোরণের পর পরই সরকারের পক্ষ থেকে এই বিস্ফোরণের মূল কারণ জানানো হয়। বিস্ফোরক হিসেবে খ্যাত এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিপুল পরিমাণে বৈরুতে মজুত করে রাখার পেছনে সরকারের অবহেলার কথা জানার পর দেশটির জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। এই ক্ষোভ পরবর্তীতে দাবানলের আগুনের মত ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

এর আগে বিস্ফোরণের পর দুদিন যাবত একাধারে বৈরুতে বিক্ষোভ হয় এবং বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি মন্ত্রণালয় ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়।

লেবাননের বিচারমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব আজ মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকার আগেই অর্থমন্ত্রীও পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ জনে। জানা গেছে ১১০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

 

৭ thoughts on “বৈরুতে বিস্ফোরণ; তোপের মুখে লেবানন সরকারের পদত্যাগ”

  1. Pingback: gay black guys dating

Leave a Comment

Your email address will not be published.