মেক্সিকোর অভিবাসীরা সেলাই করছে নিজেদের মুখ

সূত্র ও ছবিঃ The Straits TImes

মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে এক ডজন অনিবন্ধিত অভিবাসী মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সেলাই করে তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়, যাতে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের মার্কিন সীমান্তের দিকে যাওয়ার অনুমতি দেয় । অভিবাসীরা, বেশিরভাগই মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকান বলে জানা গেছে।

এই সময় সূঁচ এবং প্লাস্টিকের থ্রেড ব্যবহার করে একে অপরের ঠোঁট সেলাই করতে সহায়তা করছিলেন। অভিবাসীরা মূলত প্রতিবাদের চিহ্ন হিসাবে তাদের ঠোঁট একসাথে সেলাই করছিলেন। শুধু তরল খাওয়ার জন্য একটি ছোট জায়গা ছেড়ে দিয়েছিল এবং সেলাই করা জায়গা থেকে রক্তের ফোঁটা পড়ছিল । ইরিনিও মুজিকা নামে একজন কর্মী বিক্ষোভে  বলেন- আমরা আশা করি ন্যাশনাল মাইগ্রেশন ইন্সটিটিউট দেখতে পাবে যে যাদের রক্তপাত হচ্ছে তারা মানুষ।

গুয়াতেমালার সীমান্তবর্তী শহর তাপাচুলার নাটকীয় এই বিক্ষোভ হাজার হাজার অভিবাসীর দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল, যারা অবাধে দেশ অতিক্রম করতে সক্ষম হওয়ার জন্য কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এদিকে, ভেনিজুয়েলার নাগরিক ইয়োর্গেলিস রিভেরা বলেন- আমরা এখানে বন্দীদের মতো আছি। তিনি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মেক্সিকোর অভিবাসন সংস্থা (আইএনএম) থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু কোনো সমাধান দেখতে পাচ্ছি না কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।

আইএনএম তাৎক্ষণিকভাবে এই বিক্ষোভ সম্পর্কে মন্তব্য করার অনুরোধে সাড়া দেয়নি, তবে বলেছে যে তারা প্রতিদিন দক্ষিণের শহরে তাদের অফিসে একশরও বেশি আবেদনকারীকে গ্রহণ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, সহিংসতা ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা মেক্সিকোতে পৌঁছেছে। ২০২১ সালে, মেক্সিকোয় আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যা ৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রধানত হাইতিয়ান এবং হন্ডুরাস থেকে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সম্প্রতি বলেছে, বিদেশিদের আগমনের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে মেক্সিকোর নতুন সহায়তা কর্মসূচি বিবেচনা করা উচিত, যাদের মধ্যে অনেকেই ভেনেজুয়েলার নাগরিক, যাদের জন্য মেক্সিকোর এখন ভিসার প্রয়োজন।

 

সূত্রঃ The Straits Times.

Leave a Comment

Your email address will not be published.