শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সবশেষ

ইতালি আদালতের নির্দেশে স্বস্তি মিলেছে ১০ বাংলাদেশির

আলবেনিয়ার ক্যাম্প থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি দলকে ইতালিতে ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছে রোমের একটি আদালত। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) এ নির্দেশ দেয়া হয়। এর ফলে অবৈধ অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি পাঁচ বছরের যে চুক্তি করেছিলেন, তা একটি বড় বাধার মুখে পড়লো। বিচারকরা বলেছেন, বাকি অভিবাসীদেরও ইতালিতে ফেরত পাঠানো উচিত। যদিও তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করা হয়েছে।

নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে যে ১২ জন অভিবাসন প্রত্যাশিকে আলবেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিলো তাদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি ও দু’জন মিসরের। রোমের একটি আদালত বলেছে, তাদের ইতালিতে ফিরিয়ে আনা উচিত। কারণ, আদালতের মতে এসব অভিবাসন প্রত্যাশিরা এমন দেশ থেকে এসেছে, যেখানে ফেরাটা তাদের জন্য নিরাপদ নয়।

আলবেনিয়ার সঙ্গে মেলোনির চুক্তিটি পশ্চিমা সহযোগীদের মধ্যেও বড় ধরণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইতালি সরকার বলেছে, তারা আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করবে। কোন দেশ নিরাপদ এটি আদালতের বলবার বিষয় নয়, এটা সরকারের বিষয়। জর্জিয়া মেলোনি সাংবাদিকদের বলেছেন। তিনি সোমবার (২১ অক্টোবর) এ নিয়ে মন্ত্রীসভার বৈঠক ডেকেছেন।

যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, ভূমধ্যসাগর দিয়ে অবৈধ অভিবাসন চলতি বছর ৬৪ শতাংশ কমেছে। ইউরোপজুড়ে সরকারগুলো এ ধরণের অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে চাপের মুখে আছে।

আরও পড়ুন: কানাডার অস্থায়ী অভিবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ

আলবেনিয়ার সঙ্গে ইতালির চুক্তির লক্ষ্য হলো- ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা তিন হাজার অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। আলবেনিয়ার সঙ্গে ওই চুক্তিতে নারী ও শিশুদের রাখা হয়নি। পুরুষদের প্রথম দলটি বুধবার ইতালিয়ান নৌবাহিনীর জাহাজে করে বুধবার আলবেনিয়ায় পৌঁছেছে। এর তিন দিন আগে তাদের পঁচাশি জনের একটি দলের সঙ্গে সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়।

এর মধ্যে দশ জন বাংলাদেশি ও ছয় জন মিশর থেকে লিবিয়া হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু সেখান থেকে দু’জন শিশু আর দু’জন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রোমের বিচারকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে বাকি অভিবাসীদেরও ইতালিতে ফেরত পাঠানো উচিত, যদিও তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। বিচারকরা বলেছেন এসব অভিবাসীদের নিজ নিজ ‘নিরাপদ’ বলে বিবেচনা করা কঠিন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *