শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সবশেষ

কালো রঙের মাইক্রোবাস নিয়ে ঘোরে, র‌্যাব পরিচয়ে নিঃস্ব করে প্রবাসীদের

ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে কালো রঙের মাইক্রোবাস নিয়ে ঘোরে চক্রটি। গাড়িতে থাকে হ্যান্ডক্যাপ, বেতের লাঠি আর র‌্যাব লেখা জ্যাকেট। নিজেদের পরিচয় দেয় এলিট ফোর্স র‌্যাব। সড়কের নির্জন এলাকায় প্রবাসী বহন করা লাগেজবাহী গাড়ি দেখলেই তা থামাতে সংকেত দেয়। এরপর তল্লাশির নামে র‌্যাব পরিচয়ে সবকিছু হাতিয়ে নেয় তারা।

সম্প্রতি রাজধানীর হাতিরপুল রোড এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে এক প্রবাসীর অন্তত ১৯ লাখ টাকার মালামাল হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা তদন্তে নেমে এই চক্রের সন্ধান পায় নিউমার্কেট থানা পুলিশ। এরপর অভিযান চালিয়ে গত কয়েক দিনে চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আটজন হলেন আল আমিন হাওলাদার (৪০), ওমর ফারুক (৩৪), ফারুক বেপারী (৩৯), শহিদুল ইসলাম শেখ (৪১), মো. মানিক (২৭), জহিরুল ইসলাম জহির (৪৮), আল-আমিন আহম্মেদ (৪০) ও মো. বারেক (৪৪)।

তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, র‍্যাবের জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফ, হকিস্টিক, বেতের লাঠি, নগদ ৩০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও কিছু প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নিউমার্কেট থানার ওসি মোহসীন উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, এই চক্রটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। এরা বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীদের টার্গেট করে। এরপর পিছু নিয়ে সুবিধাজনক এলাকায় প্রবাসীর গাড়ির গতিরোধ করে র‌্যাব পরিচেয়ে তল্লাশি করে সবকিছু লুটে নেয়।

ওসি আরও বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে দুবাই থেকে আসা প্রবাসী ফারুক মিয়ার গাড়ির পিছু নিয়েছিল এই চক্রটি। এক পর্যায়ে ওই প্রবাসী হাতিরপুল রোডে নিজের বাসার সামনে গাড়ি থামালে তাকে জোর করে র‌্যাব পরিচয় দেওয়া ডাকাত দলের সদস্যরা নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর মালামাল থাকা গাড়িটিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লুটপাট চালায়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা জানার পরই নিউমার্কেট থানা পুলিশ চক্রটিকে শনাক্তের চেষ্টা করে। রমনা বিভাগের ডিসির নির্দেশে কয়েকটি টিম গঠন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিউমার্কেট থানা পুলিশ জানায়, ওই রাতে বিমানবন্দর থেকেই প্রবাসী ফারুকের গাড়িটি অনুসরণ করছিল ডাকাত দলের সদস্যরা। সেটি হাতিরপুল রোডে এসে থামলে র‌্যাবের পোশাক পরা ডাকাত সদস্যরা মাইক্রোবাস থেকে নেমে প্রবাসীকে টেনেহিচড়ে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর স্বর্ণের কয়েকটি চুড়ি, দুটি স্যামস্যাং এস-২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন, একটি আইফোন-১২, একটি অ্যাপল ম্যাকবুক, একটি আইপ্যাড, একটি অ্যাপল ওয়াচ, তিনটি কম্বল ও বিভিন্ন মালামালসহ অন্তত ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে। এরপর প্রবাসী ফারুককে গাড়িতে করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে মারধর করে। তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভোরে হাতিরঝিল এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়।

নিউমার্কেট থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ চারটি, ফারুক বেপারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ডাকাতির দুটি, শহিদুল ইসলাম শেখের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ও ডাকাতিসহ সাতটি, মানিকের বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি ও মাদকসহ ৯টি, জহিরুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ও ডাকাতিসহ ১২টি, আল-আমিনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ পাঁচটি এবং বারেকের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ ও অস্ত্র আইনে ১৪টি মামলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *