শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সবশেষ

ধর্ষণের শিকার মাগুরার শিশুটির মৃত্যু: মামলার বিচার শুরু হবে এক সপ্তাহের মধ্যে

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ৮ বছর বয়সী শিশুটি ইন্তেকাল করেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১টায় ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শিশুটির মৃত্যু হয়। হাসপাতালের শিশু বিভাগের শিশুরোগের চিকিৎসাসংক্রান্ত নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (পিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল শিশুটি। এর আগে বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারবার ও বৃহস্পতিবার আরও দুইবার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ (আকস্মিকভাবে হৃৎস্পন্দন বন্ধ) হয় শিশুটির।

৮ বছরের শিশুটি ৫ মার্চ মাগুরায় বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে গভীর রাতে ধর্ষণের শিকার হয়। শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাতে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে শনিবার (৮ মার্চ) বিকেলে শিশুটিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল।

ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনের নামে মামলা করেন। ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটির ভগ্নিপতি সজিব (১৮), সজীবের ভাই রাতুল (১৭), তাদের বাবা হিটু মিয়া (৪২) ও মা জাবেদা বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এই ধর্ষণ মামলার বিচার আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় আজকেই (বৃহস্পতিবার) ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে। সাত দিনের মধ্যে বিচারকাজ শুরু হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আইন উপদেষ্টা।বিগত সময়ের উদাহরণ টেনে আসিফ নজরুল বলেন-

অতীতেও ধর্ষণ মামলার বিচারকাজ সাত থেকে আট দিনের মধ্যে শেষ করার নজির রয়েছে। এবারও সাত দিনের মধ্যে বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এটি করতে পারলে বিচারক দ্রুততার সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবেন। বেশ কিছু পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য রয়েছে। ডিএনএ টেস্ট পাওয়া যাবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। ফলে আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুততার সঙ্গে মামলার বিচার হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।

আইন উপদেষ্টা বলেন,

‘আমরা নতুন একটি আইন করছি। আশা করা হচ্ছে রোববার বা সোমবার নতুন আইন তৈরি করা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের ঘটনার বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কাজ হবে শিশু ও বলাৎকারের ঘটনার বিচার করা; যাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া যায়। আগামী রোববারের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের গেজেট প্রকাশ করা হবে।’

আইন উপদেষ্টা আরও জানান-

‘দাফনের জন্য আজকেই মৃতদেহ হেলিকপ্টারযোগে মাগুরায় নেওয়া হবে। মৃতদেহ ও পরিবারের সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার যাবেন। দাফন পর্যন্ত তিনি থাকবেন। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে। স্যাম্পল কালেকশন হয়ে হয়েছে। এরই মধ্যে ১২–১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি। সাত দিনের মধ্যে বিচারকাজ শুরু হবে।’

আসিফ নজরুল বলেন,

‘ধর্ষকদের প্রতিও আমাদের তীব্র ঘৃণা। আমরা সংক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনাদের কোনো পরামর্শ থাকলে জানাবেন। কিন্তু এই বিষয়কে সামনে রেখে কেউ যদি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের দিকে নজর দেবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *