শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সবশেষ

লাখো রোহিঙ্গার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিবের ইফতার; আগামী ঈদ নিজ দেশে করবে এমন প্রত্যাশা

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়।এর আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরের একটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন এবং খুরুশকূল জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্র পরিদর্শন করেন  প্রধান উপদেষ্টা। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আন্তোনিও গুতেরেস উখিয়ায় প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে ইফতারে যোগ দেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব

এসময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব। বিকালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন-

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে আমি দুটি স্পষ্ট বার্তা পেয়েছি। প্রথমত, আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মিয়ানমারে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করে কোন ধরনের বৈষম্যের শিকার তারা যেন না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গারা আরও ভালো পরিবেশ চায় ক্যাম্পে। দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অনেক দেশ সম্প্রতি নাটকীয়ভাবে মানবিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এই কারণে আমাদের মানবিক সহায়তার মধ্যে খাবারের রেশন কমাতে হয়েছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। যত দেশ সম্ভব আমি কথা বলবো, যাতে ফান্ড পাওয়া যায় এবং এর থেকে আরও খারাপ পরিস্থিতি না আসে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন-

এই ঈদে না হোক আগামী ঈদ রোহিঙ্গারা নিজের দেশেই করতে পারবেন। রোহিঙ্গারা যেন আগামী বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জাতিসংঘের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

প্রায় ১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সাথে ইফতার করেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব

রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন-

‘আল্লাহর কাছে দোয়া গরি সাম্মর বার যেন অনরা নিজর বাড়িত যাইয়ারে ঈদ গরিত পারন।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরাতে সারা দুনিয়ার সঙ্গে প্রয়োজনে লড়াই করতে হবে। ঈদে মানুষ আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করে। রোহিঙ্গাদের সেই সুযোগও নেই।

লাখো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানসহ দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এর আগে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সেখানে গুতেরেস রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মিয়ানমারে তাদের ওপর চালানো গণহত্যার মর্মস্পর্শী বর্ণনা শোনেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *