রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

দেশের বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাচিত সরকারকেই: তারেক রহমান

tarek rahman on ctg port issue

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ কিংবা দেশের সবচেয়ে কৌশলগত সম্পদ—বন্দর—নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ অধিকার শুধুই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের হাতে থাকা উচিত বলে দৃঢ় মত দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, কোনো নির্বাচনি ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের হাতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়া মানে “চাবি হাতে তুলে দিয়ে বাড়ির ভবিষ্যৎ ভাড়াটিয়ার হাতে তুলে দেওয়া”—যা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত দীর্ঘ এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান লিখেছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ কাগজে–কলমে একটি আনুষ্ঠানিক বিষয় মনে হলেও বাস্তবে এটি কোটি মানুষের জীবনে প্রতিদিনের চাপ–উদ্বেগ–টানাপোড়েনকে গায়ে হাত দিয়ে নেড়ে দেয়।
তিনি উদাহরণ দেন—গাজীপুরের ছোট পোশাক কারখানার মালিক কিংবা নারায়ণগঞ্জের শ্রমজীবী পরিবারের কথা। শুল্ক সুবিধা একদিনে বাতিল হলে, রপ্তানিতে চাপ তৈরি হলে, তারা সবার আগে ধাক্কা খায়। “এ সিদ্ধান্তগুলোতে তারা ভোট দেয়নি, কাউকে জিজ্ঞাসাও করা হয়নি”—বলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।


বিএনপি আগেই বলেছিল, ২০২৬ সালের মধ্যেই এলডিসি উত্তরণের সময়সূচিতে আটকে থাকা ভুল সিদ্ধান্ত। তারেক রহমান মনে করিয়ে দেন—অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশ সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছিল, জাতিসংঘের নিয়মেও এমন সুযোগ রয়েছে যখন অর্থনৈতিক ধাক্কা তীব্র হয়। তাই তাঁর প্রশ্ন— “বাংলাদেশ কেন সেই সুযোগ চাইলো না? অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বটা ছিল দেশের ভবিষ্যতের জন্য সময় চাওয়া, নয় যান্ত্রিকভাবে সময়সূচিতে আটকে থাকা।”

আরও পড়ুনঃ  জাতিকে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার অঙ্গীকার সিইসির


তারেক রহমান অভিযোগ করেন—সরকার জন-আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে, বিকল্প কৌশল বন্ধ করে দিচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন— সরকার নিজ নথিপত্রেই স্বীকার করেছে— ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণ ঝুঁকি, রপ্তানিতে চাপ- সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা “টানাটানির বাজারে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়” পার করছে।

তারেক রহমান বলেন— দেশের সবচেয়ে কৌশলগত সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। তার বক্তব্য— “এটা ব্যক্তিকে আক্রমণ নয়; এটা রাষ্ট্রের নীতি, সার্বভৌমত্ব আর ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্ন।” বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনে করেন— এলডিসি উত্তরণ হোক, বন্দর সংস্কার হোক—সবই দেশের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু এগুলো হতে হবে সে সরকারের হাতে, “যে সরকার সত্যিকারের জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং যাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।”

তারেক রহমান মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কখনোই নিষ্ক্রিয় নয়। তারা অংশগ্রহণ, মর্যাদা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার চায়। এ কারণেই অনেকেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে “দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের রেফারেন্ডাম মুহূর্ত” হিসেবে দেখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *