সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

ধর্ষণের দায়ে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড— ইরানের কঠোর রায়

ইরানে আবারও একবার মনে করিয়ে দেওয়া হলো, কোনো অপরাধ ছোট হয় না—ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় সেমনান প্রদেশের বাসতাম শহরে স্থানীয় সময় সকালেই এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। আদালতের রায় নিশ্চিত করেছে—দুই নারীকে প্রতারণা করে শারীরিক সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছিলেন তিনি।

দেশটির বিচার বিভাগের সরকারি মাধ্যম মিজান অনলাইন জানিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি কাগজপত্র সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গেছে, এবং সেখানেও রায় বহাল থাকায় চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। প্রাদেশিক বিচার প্রধান মোহাম্মদ আকবরী নিশ্চিত করেছেন—“এটি ছিল সুপ্রিম কোর্টের গভীর পর্যালোচনার পর দেওয়া সিদ্ধান্ত।”

প্রশাসনের দাবি—দোষী ব্যক্তি শুধু ধর্ষণই করেননি; ভুক্তভোগী দুই নারীকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং “সম্মানহানির” ভীতি প্রদর্শন করাও তার অভিযোগের তালিকায় ছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মকর্তারা দোষীর পরিচয় প্রকাশ করেননি।

আরও পড়ুনঃ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা

ইরানে সাধারণত কারাগারের ভেতর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে কখনো কখনো জনসমক্ষে দণ্ড দেওয়ার ঘটনাও ঘটে—যা আবারও স্মরণ করিয়ে দিলো দেশটির কঠোর আইন ও জিরো টলারেন্স নীতি সম্পর্কে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি আরো ভয়াবহ—অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, চীনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ এখন ইরান। পরিসংখ্যানের বাইরে, এ ধরনের শাস্তি সবসময়ই বিশ্বজুড়ে বিতর্ক আর প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে—নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো অপরাধে তাদের অবস্থান কঠোরই থাকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *