সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

কুয়ালালামপুরে অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১২৪ জন আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জিএম প্লাজা শপিং সেন্টারে সোমবার সকাল ১২টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলে এক বিশেষ অভিযান, যার লক্ষ্য ছিল “অবৈধ প্রবাসীদের ধরাও, পালানোর চেষ্টা হলে পিছু ধাওয়া করাও।” এই অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১২৪ প্রবাসী আটক হন। সাহায্য করেছে মালয়েশিয়া কোম্পানি কমিশন (এসএসএম), কুয়ালালামপুর ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয় (কেপিডিএনকেএল) এবং কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল)।

অভিযান চলাকালীন অনেক প্রবাসী এমন এক্সট্রিম এক্সারসাইজ দেখান, যা কোনো জিমের ব্যায়ামকেও হার মানায়। কেউ দোকানের ভেতরে লুকিয়ে পড়েন, কেউ গ্রাহক সেজে বাঁচার চেষ্টা করেন। এমনকি জরুরি সিঁড়ি আর লিফট পর্যন্ত ব্যবহার করে পালানোর চেষ্টাও করা হয়।

পাকিস্তানি নাগরিক মুনির (৪৭) এই অভিযানের সবচেয়ে দুঃসাহসী “পলাতক প্রবাসী” ছিলেন। তিনি ইউএন কার্ড দেখালেও, সেটা গত বছরের অক্টোবরেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। মুনির জানিয়েছিলেন, ছয় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন, পরিবারের আট সদস্যের দায়িত্বও আছে, এবং কানাডা যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

আরও পড়ুনঃ নেতানিয়াহুর ভারত যাত্রা থমকে গেল নিরাপত্তা শঙ্কায়

অন্যদিকে মিয়ানমারের কামিদ (২২) নিজের “ভিসা ছাড়া জীবনযাপন” কৌশল দেখাতে না পেরে আটক হন। তিন মাস আগে এজেন্টের মাধ্যমে ৬ হাজার রিঙ্গিত খরচ করে মালয়েশিয়ায় এসেছেন, আর এখনো বেকার।

কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাওপি ওয়ান ইউসুফ জানিয়েছেন, অভিযানে মোট ২০৫ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ২০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের ১২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে কতজন বাংলাদেশি, তা এখনও রহস্যের আড়ালে।

অভিযানে অভিযোগের তালিকায় ছিল—ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভ্রমণ নথি না থাকা। এসব ইমিগ্রেশন আইন ৬(১)(সি) ও ১৫(১)(সি) অনুযায়ী অপরাধ। এছাড়া, ডিবিকেএল ছয়টি কম্পাউন্ডে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা চালানোর দায়ে একটি দোকানও বন্ধের নোটিশ পেয়েছে। আটক প্রবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সত্যি বলতে, এই অভিযান যেন বাস্তব জীবনের “ধরা পড়া খেলোয়ারদের লড়াই”। আর প্রবাসীরা হয়তো এখন ভাবছেন—পরেরবার যদি শপিং করতে যাই, কমেডি নয়, ডকুমেন্টস সাথে রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *