নেত্রকোনার মদন পৌরশহরের মহিউদ্দিন মার্কেটে বুধবার সকালে এমন এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যা পুরো এলাকাকে আতঙ্কে বিভোর করে রেখেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ একটি দোকান থেকে ধোঁয়ার নিঃসরণ দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া আগুনে রূপ নেয়, আর দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা শিখাগুলো চারপাশের দোকানগুলোকে গ্রাস করে নেয়। তাপের তীব্রতা এতোটাই ছিল যে আশপাশের সবকিছুকে ছাই ও ধোঁয়ার কুন্ডলিতে ঢেকে দেয়।
অগ্নি প্রলয়ে অন্তত ২৫টি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ধ্বংস হয়, আর ৪৫টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাপস বস্ত্রালয়, তাকিয়া বস্ত্রালয়, পোশাক শ্রী, রাজলক্ষ্মী বস্ত্রালয়, মধুয়াখালী বস্ত্রালয়, সাইফুল বস্ত্রালয়, বিশ্বাস বস্ত্রালয়, মনেরেখা বস্ত্রালয়, মনোমোহন বস্ত্রালয়সহ অসংখ্য দোকান আগুনের তাণ্ডবে বিনষ্ট হয়। আগুনের তীব্রতায় মার্কেটের রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা মালামালও পুড়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ২৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুনঃ খেলতে যেতে মানা করলেন মমতা ব্যানার্জি
স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে থাকে, আবার কেউ কেউ দমকল কর্মীদের সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। দেড় ঘণ্টার কঠোর সংগ্রামের পরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এই হাহাকার থেমে যায়নি—আগুন নেভাতে গিয়ে উপজেলার উচিতপুর গ্রামের ছানা মিয়া আহত হন এবং তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করতে হয়।
ব্যবসায়ীরা হতবিহ্বল, তারা জানাচ্ছেন, আগুনে তাদের স্বপ্ন, শ্রম এবং প্রায় ১৮ কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। রাজীব পাল ও উত্তম রায় অভিযোগ করছেন, “আমরা এখন সর্বস্বান্ত।”
মদন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার জমিয়ত আলী জানিয়েছেন, আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তাধীন, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। মার্কেটে প্রায় ছয় শতাধিক দোকানপাট থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইউএনও আদিলুজ্জামান আশ্বাস দিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
ঘটনাস্থলটি যেন এক ভয়ংকর প্রলয়ের চিত্র। আগুনের তীব্র শিখা, ছাই হয়ে যাওয়া মালামাল, ধোঁয়ার কুন্ডলি আর চরম আতঙ্কগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে। এটি কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতির ঘটনা নয়, মানুষের জীবিকা ও স্বপ্নের উপর আঘাত হানা এক মর্মান্তিক প্রলয়।








