স্বপ্নের ইতালিতে পৌঁছানোর লোভ দেখিয়ে মাদারীপুরের শিবচরের তিন যুবককে লিবিয়ার মরুভূমিতে বন্দী করে নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে মানবপাচারকারী চক্র। হাত-পা বেঁধে বেদম মারধরের ভিডিও পাঠিয়ে তাদের পরিবারগুলোর কাছে দাবি করা হয়েছে ভয়ংকর এক মুক্তিপণ—৬০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ভিডিও দেখে পরিবারগুলো নিশ্চিত হয়েছে, আলমাছ, সজিব ও সবুজ—এই তিনজন লিবিয়ার কোনো সীমান্তবর্তী এলাকায় অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকা পড়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উন্নত জীবনের স্বপ্ন পূরণের আশায় পরিবারগুলো জমি-বাড়ি বিক্রি এবং ধারদেনা করে দালালদের হাতে তুলে দিয়েছিল প্রায় ৪০ লাখ টাকা। প্রতিশ্রুতি ছিল—নিরাপদে ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছামাত্রই এই প্রতিশ্রুতি ভেঙে যায়। যে যাত্রাকে ‘ভবিষ্যতের দরজা’ বলা হয়েছিল, তা মুহূর্তেই পরিণত হয় জীবন্ত দুঃস্বপ্নে।
এখন পাচারকারীদের ফোনে বারবার শোনা যাচ্ছে হুমকির সুর— “টাকা দাও, না হলে লাশ পাঠাব।”
পরিবারগুলো বলছে, “আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন আর কিছু দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। প্রতিদিন ভিডিও পাঠিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমাদের ছেলে বাঁচবে কিনা তা নিয়েই আতঙ্কে আছি।”
আরও পড়ুনঃ শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জরুরি বার্তা
তিন যুবকের গ্রামের বাড়িতে এখন নেমে এসেছে শোকের এক স্থির-নিঃশব্দ বাতাস। যেসব পরিবার একদিন আশা করেছিল বিদেশে গিয়ে ছেলেরা ভাগ্য বদলাবে—আজ সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে মৃত্যুময় ফাঁদে। দালাল নূর আলম ও সেলিম নামে দুজন স্থানীয় ব্যক্তি যুবকদের লিবিয়ায় পাঠানোর পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—তারাই ওই যুবকদের লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের কাছে ‘বিক্রি’ করে দিয়েছে।
এ ঘটনায় শিবচর থানায় মামলা হয়েছে। থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম জানান— “অভিযোগ পাওয়ার পর দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মানবপাচারচক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অবৈধ বিদেশযাত্রার এই ভয়াবহ চিত্র শুধু অর্থনৈতিক প্রতারণা নয়, বরং মানবিক বিপর্যয়ের ক্রমবর্ধমান সংকেত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সচেতন মহল মনে করছে— যতক্ষণ না পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং বিদেশযাত্রার বৈধ পথ সহজ করা হবে—ততক্ষণ যুবকদের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধ করা কঠিন হবে।








