বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬

মালয়েশিয়ায় আটক অভিবাসীদের মধ্যে ২৭ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে ২৭ বাংলাদেশিসহ ১৬৩ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। কুয়ালালামপুরের পান্তাই ডালাম ও বুকিত বিনতাং এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, কুয়ালালামপুরের পান্তাই ডালামের এক আবাসিক ভবনে দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলাবহির্ভূত আচরণ নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে ১৩৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়।

কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ জানান, জনসাধারণের অভিযোগ ও টানা দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে প্রায় ২০০ জনকে যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৩৩ জনের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ১০২ জন পুরুষ ও ৩২ জন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ জন ইন্দোনেশীয়, ৩১ জন মিয়ানমারের, ২৭ জন বাংলাদেশি, ১২ জন পাকিস্তানি, ৯ জন নেপালি ও একজন ভারতীয়।

ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি জানান, আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য ইমিগ্রেশন দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) (অতিরিক্ত সময় অবস্থান) এবং ধারা ৬(১)(সি) (বৈধ পাস বা পারমিট ছাড়া অবস্থান) অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

তামান বুকিত আংকাসার ব্লক ২১-এর বাসিন্দা সমিতির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সুহাইলি তাম্বি বলেন, বছরের পর বছর ধরে বিদেশিদের অবাধ চলাফেরার কারণে ওই ব্লকের পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ স্থান ও বারান্দায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বাসিন্দারা অস্বস্তিতে পড়েন বলেও তিনি জানান।

এদিকে, রাজধানীর বুকিত বিনতাং এলাকায় তিনটি মাসাজ পার্লারে অভিযানে জেআইএম ৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করে। সোমবার রাতে পরিচালিত এ অভিযানে আটকদের ১১ জন ইন্দোনেশীয়, ১৬ জন কম্বোডীয়, ২ জন থাই এবং একজন চীনা নাগরিক।

ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি জানান, আটক সবাইকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের জন্য জেআইএম কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে অংশ নেওয়া হারিয়ান মেট্রো জানায়, সংশ্লিষ্ট মাসাজ পার্লারগুলোর অধিকাংশ কর্মী ইন্দোনেশীয় নাগরিক। তাদের অনেকেরই বৈধ পাসপোর্ট ও কাজের অনুমতিপত্র নেই। যদিও তারা কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।

জেআইএম জানিয়েছে, অবৈধ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ ও ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *