মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

এবার ভারতকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়ে ভারতকে আবারও সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, নয়াদিল্লি যদি এভাবে রুশ তেল কিনতেই থাকে, তাহলে ভারতের পণ্যের ওপর আরও বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। একইসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি ‘খুব ভালো মানুষ’ মনে করেন এবং মোদি ‘জানতেন যে তিনি খুশি নন’ এবং এই কারণে ভারত ‘তাকে খুশি রাখতে’ চায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রুশ তেলের বিষয়ে সহায়তা না করলে আমরা ভারতের ওপর শুল্ক আরও বাড়াতে পারি’। মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা মূলত আমাকে খুশি রাখতে চেয়েছে… প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ভালো মানুষ, ভালো মানুষই বটে। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তারা বাণিজ্য করে, আর তাদের ওপর খুব দ্রুতই আমরা শুল্ক বাড়াতে পারি।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ট্রাম্পের এই নতুন সতর্কবার্তা এসেছে এমন সময়ে যখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটনে নজরদারি বেড়েছে। তবে ভারত দাবি করছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এসব তেল আমদানি প্রয়োজন।

অবশ্য কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল। সে সময় দুই নেতা শুল্ক-সংক্রান্ত টানাপোড়েনের মধ্যেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের গতি ধরে রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। আর সেসময়ই ভারত–মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য অচলাবস্থা সমাধানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এছাড়া গত বছরের শুরুর দিকে উভয় দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হলেও রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কেনায় গত আগস্টে ভারতের ওপর শাস্তি হিসেবে ভারতীয় পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে তেলের বিষয়টি সামনে এসেছে। ভেনেজুয়েলায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেলভান্ডার রয়েছে। যা বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম তেলের মজুদ।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে লাতিন আমেরিকার এই দেশটির উৎপাদন কমে এখন দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রমাণিত তেলভান্ডারের প্রায় ১৭ শতাংশই ভেনেজুয়েলায় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *