বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জ-১: হাইকোর্টের রায়ে কারাগার থেকেই ভোটের লড়াইয়ে কাবির মিয়া

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে ভোটের রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক দেখা দিয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হওয়া গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী জেলবন্দি কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই আদেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণে তার সব আইনি বাধা দূর হওয়ায় কারাগারে থেকেও তিনি নির্বাচনি মাঠে ভোটের সমীকরণে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের পূর্বের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং তাকে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর ফলে গোপালগঞ্জ-১ আসনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলেন।

এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসার কাবির মিয়াকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করলেও দীর্ঘ শুনানি শেষে ইসি রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে তার আপিল খারিজ করে দেয়।

ইসির ওই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে কাবির মিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শুনানিকালে তার পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরেন যে, সংশ্লিষ্ট ঋণসংক্রান্ত জটিলতা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কাবির মিয়া ঋণখেলাপি নন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার যুক্তি গ্রহণ করে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।

কাবির মিয়া মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তার একটি সুসংগঠিত ‘ভোটব্যাংক’ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক দৃঢ় রয়েছে। তিনি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ফারুক খানের সঙ্গে বিরোধ থাকার কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি বরইতলা-মুকসুদপুর-কাশিয়ানী আঞ্চলিক বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাবির মিয়া গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের বিপক্ষে লড়ে প্রায় লক্ষাধিক ভোট পেয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *