মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সবশেষ

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারকারী ‘গ্যাং সোজুল’ এর আস্তানায় অভিযান: ১৯ বাংলাদেশিসহ আটক ২০

smuggler

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিক পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি বড় চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। ‘গ্যাং সোজুল’ নামে পরিচিত এই চক্রের হোতাসহ ১৯ জন বাংলাদেশি এবং একজন স্থানীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সোমবার এক বিবৃতিতে ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কুচাই লামা এলাকার একটি সুপার মার্কেটের পার্কিংয়ে অভিযান চালানো হয়।একটি ফোর-হুইল ড্রাইভ এবং একটি এসইউভি (SUV) তল্লাশি করে ৬ জন বাংলাদেশি পুরুষ, ১ জন নারী এবং ১ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে আরও ১২ জন বাংলাদেশিকে পাওয়া যায়। ভবনটি পাচারকৃতদের অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হতো।অভিযান চলাকালীন পাচার কাজে ব্যবহৃত দুটি যানবাহন ছাড়াও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও নথি জব্দ করা হয়েছে:
৮২,১০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত।৩,৭০০ মার্কিন ডলার।বেশ কিছু বাংলাদেশি পাসপোর্ট।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘গ্যাং সোজুল’ গত বছরের (ডিসেম্বর ২০২৫) শেষ দিক থেকে সক্রিয় ছিল।  তৃতীয় দেশের সীমান্ত ব্যবহার করে কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো। সীমান্ত থেকে সরাসরি কুয়ালালামপুরের ক্লাং ভ্যালিতে আনা এবং সেখান থেকে বিভিন্ন রাজ্যে কাজে পাঠানো। জনপ্রতি পাচারের জন্য তারা ১২,০০০ রিঙ্গিত করে আদায় করত। ইমিগ্রেশন বিভাগের ধারণা, এই চক্রটি এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রিঙ্গিত অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে।
আটককৃতদের বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। তাদের বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইন রক্ষায় এ ধরনের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *