শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আম্পায়ারদের পারিশ্রমিক নিয়ে মন্তব্য, ফের বিতর্কে নাজমুল

একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। বিসিবির একাধিক কমিটি, আম্পায়ার ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের পারিশ্রমিক নিয়ে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে বোর্ডকে। তার লাগামহীন এসব মন্তব্যে ফুঁসছে ক্রিকেটাঙ্গন। আম্পায়ার, ক্রিকেটার ও সাবেক সংগঠক অনেকেই প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছেন।

নাজমুল ইসলামের সঙ্গে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও ক্রিকেটারদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছিলেন তিনি। এবার নতুন করে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সরঞ্জাম কেনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই পরিচালক।

বিসিবির সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘এখন অনেকের কাছে পদটাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। ক্রিকেটার, আম্পায়ার বা কর্মকর্তাদের কীভাবে সম্মান দিতে হয়, সে বোধ অনেকের নেই। এ ধরনের বক্তব্য শুধু সংশ্লিষ্ট কমিটিকে নয়, পুরো ক্রিকেট অঙ্গনকেই মানসিকভাবে আঘাত করে।’লাগামহীন বক্তব্যের পেছনে অযোগ্য নেতৃত্বকেই দায়ী করেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।

তার ভাষায়, ‘আগে বোর্ডে যাঁরা আসতেন, তারা দীর্ঘদিন ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন অনেক পরিচালকেরই আগে ক্রিকেট সংগঠনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। ক্লাব, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে কাজ না করা মানুষদের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য আসাটাই স্বাভাবিক।’নাজমুল ইসলামের মতো পরিচালকদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় বিসিবি সভাপতির কাঁধেই বর্তায় বলে মনে করেন এই সাবেক পরিচালক। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট খেলা আর ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা এক বিষয় নয়।

বড় প্রতিষ্ঠান চালাতে কর্পোরেট ও সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা দরকার। আইসিসির একটি পদ থেকে সরাসরি বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সহজ নয়।’নাজমুলের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ আম্পায়াররাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক সিনিয়র আম্পায়ার বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের আম্পায়ারদের বেতন-ভাতা এখনও কম। সামান্য বাড়ানো হয়েছে, সেটি নিয়েই তার আপত্তি। সব বিষয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন কেন? এসব দেখভালের জন্য তো আলাদা আম্পায়ার্স কমিটি রয়েছে। সভাপতি হিসেবে এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারাটাই হতাশাজনক।’

নাজমুলের এমন মন্তব্যে আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু ডেইলি সানকে বলেন, ‘তিনি কি আদৌ বোঝেন তিনি কী বলছেন? ২ হাজার ৫০০ ডলার আসলে কত টাকা, সেটাই তিনি জানেন না। বিশ্বের সেরা ১০ জন আম্পায়ারের একজন বাংলাদেশের এলিট প্যানেল আম্পায়ার। তাকে আপনি কত দেবেন? ২০০ টাকা?’

ক্রিকেটাঙ্গনে নাজমুল ইসলাম পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘কোকোনাট নাজমুল’ নামে। ক্রিকেটারদের জন্য নারকেল বরাদ্দকে ‘অতিরিক্ত খরচ’ আখ্যা দিয়ে আগেও বিতর্ক জড়ান তিনি। এবার আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য করে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজমুল বলেন, ‘দুই বছর আগে আম্পায়ারের ম্যাচ ফি ছিল ৭০০ ডলার, এখন তা ২ হাজার ডলার হয়েছে। এই ধরনের বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। বাড়ানো যেতে পারে, তবে সেটারও একটি সীমা থাকা উচিত।’

এখানেই থামেননি তিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সরঞ্জাম কেনা নিয়েও প্রশ্ন তুলে নাজমুল বলেন, ‘একটি জুতার দাম ৩০ হাজার টাকা দেখানো হচ্ছে। এই টাকা সত্যিই খরচ হয়েছে, নাকি সরাসরি দেওয়া হয়েছে, আমি জানি না। তবে বোর্ডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।’

এর আগে বিপিএল চলাকালে ক্রিকেটারদের হেয় করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন নাজমুল ইসলাম। একপর্যায়ে ক্রিকেটাররা বিপিএল বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই প্রেক্ষাপটে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও গত মাসের শেষ দিকে এক বোর্ড সভায় রহস্যজনকভাবে আবারও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনা হয়।

এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের মধ্যে নতুন করে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কোয়াব সভাপতি তখন বাংলানিউজকে বলেছিলেন, ‘বিসিবি আমাদের সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন যদি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা হয়, তাহলে আমাদের বলার কিছু থাকে না। এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য অত্যন্ত শকিং।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *