রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত বেড়ে ৪০, থানা ঘেরাও করে অবস্থান

পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বৌবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে।

 

আহতদের মধ্যে রয়েছে—

জামাল মৃধা (২২), আমিনুল ইসলাম (৩৭), জুয়েল (৩৩), নয়ন (১৭), লিমা জাহান (২৫), শাহজালাল (২০), সুজন (২৬), শহিদুল বেপারী (২৭), হাফেজ আনিসুর রহমান (৫৫), আমিনুল মাতব্বর (৩০), সোহাগ (৩০), সাইফুল (৪০), জিসান (২৫), সজিব (১৭), রোজিনা বেগম (৩০), দেলোয়ার গাজী (৫৮) সহ আরও অনেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জামায়াতের কয়েকজন কর্মী চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে বিএনপির সমর্থকরা তাদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তুলে তৎক্ষণাৎ হেনস্থা করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা বাড়তে বাড়তে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর জামায়াতের সমর্থকরা বাউফল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ওসি প্রত্যাহার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন। জামায়াতের সমর্থকরা থানা ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, চন্দ্রদ্বীপে বিএনপির সমর্থকদের হামলায় তাদের অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। তিনি জানান, ওসি প্রত্যাহার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে।

অন্যদিকে, বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, জামায়াতের দাবি যে ৫০ জন আহত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর দাবি, জামায়াতের হামলায় বিএনপির তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি, লিখিতভাবে এখনও জানানো হয়নি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তিনি “একটু ঝামেলার মধ্যে আছি”, পরে ফোন করতে অনুরোধ করেন। ঘটনার পর থেকে থানা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাউফল থানার সামনে জামায়াতের অবস্থান চলছিল এবং তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *