পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবস্থা, বিশেষ করে তার দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে দলটির আইনপ্রণেতারা এবং বিরোধী জোট তেহরিক তাহাফ্ফুজ-ই-আইয়েন পাকিস্তান (টিটিএপি) টানা চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে পার্লামেন্ট হাউসে এই অবস্থান চলছে। এতে জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মেহমুদ খান আছাকজাই এবং সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস উপস্থিত আছেন। তবে পার্লামেন্ট লজ ও কেপি হাউসে চলা অবস্থান কর্মসূচি শেষ হয়েছে; খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্ডাপুর কেপি হাউস ত্যাগ করেছেন।
টিটিএপি ঘোষণা দিয়েছে, আদিয়ালা জেলে আটক সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে আল-শিফা আই ট্রাস্ট হাসপাতালে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এখন সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে নতুন বিরোধের বিষয় হয়ে উঠেছে। তার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যামিকাস কিউরি ব্যারিস্টার সালমান সাফদারের দাখিল করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিনি সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও) নামে গুরুতর চোখের রোগে আক্রান্ত। সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো ঝুঁকির সঙ্গে এই রোগের সম্পর্ক রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরান খান তার ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারানোর অভিযোগ করেছেন।
এরপর পিটিআই ও তার পরিবারের সদস্যরা তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানান। সূত্র জানায়, পাঁচজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং তার ডান চোখের ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলমান চিকিৎসার ফলে আরও উন্নতি আশা করা হচ্ছে এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল, সেই নির্দেশনা মেনেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে টিটিএপি প্রধান আছাকজাই পার্লামেন্ট হাউসে দুপুর ১টায় সংসদ সদস্যদের একটি বৈঠক ডেকেছেন, যেখানে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) ও আল-শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ইমরান খানের বিস্তারিত পরীক্ষা করে তার চোখের অবস্থার উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টার ব্রিফিংও করেন।
কারা কর্তৃপক্ষ তার রক্তচাপ, নাড়ির গতি, তাপমাত্রা ও রক্তে শর্করার মাত্রাসহ পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য নথি পাঞ্জাব হোম ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়েছে।
এদিকে তোষাখানা-২ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত ও চিকিৎসা ও মানবিক কারণে জামিন চেয়ে তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। ওই মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত। এছাড়া আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা, যা ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড কেলেঙ্কারি হিসেবেও পরিচিত, সেই মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদনের দ্রুত শুনানির জন্যও পৃথক আবেদন করা হয়েছে।
সূত্র- জিও নিউজ








