তবে একাধিক সূত্র বলছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে কখনো সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে, আবার কখনো বিপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি উপদেষ্টা ও মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন পথটি সবচেয়ে কার্যকর হবে তা বিবেচনা করছেন। বুধবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। একই দিনে ট্রাম্পকে তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে জেনেভায় হওয়া পরোক্ষ আলোচনার বিষয়ে অবহিত করেন। তবে সপ্তাহান্তের আগেই সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার জেনেভায় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা পরোক্ষ আলোচনা করেন। কোনো চূড়ান্ত সমাধান না হলেও ইরানের প্রধান আলোচক জানান, উভয় পক্ষ কিছু ‘দিকনির্দেশনামূলক নীতিতে’ একমত হয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এখনো বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান তাদের আলোচনার অবস্থান আরও স্পষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ওই সময়ের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত থাকবে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এমন অনিশ্চিত বক্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড দ্রুত মধ্যপ্রাচলে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর ট্যাংকার ও যুদ্ধবিমানও অঞ্চলটির আরও কাছে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কংক্রিট ও মাটি দিয়ে আরও সুরক্ষিত করছে।
এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা কমান্ডসহ বিভিন্ন উদ্ধার ও নিরাপত্তা সংস্থাকে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সীমিত নিরাপত্তা বৈঠকগুলোতে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তেল আবিব সরাসরি অংশ না নিলেও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে ইরান। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সময়সীমা দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে এবং সময় ঘনিয়ে আসছে।
সাবেক ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা প্রধান আমোস ইয়াদলিন বলেন, ‘আমরা এখন হামলার আরও কাছাকাছি অবস্থানে আছি।’ ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের হামলা চালালে ইরানের পক্ষ থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে পাল্টা আঘাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।








