শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সবশেষ

সুপ্রিম কোর্টকেও পাত্তা দিচ্ছেন না ট্রাম্প, নতুন শুল্কের ঘোষণা

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একতরফা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। তবে সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়কে পাত্তাই দিচ্ছেন না দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো আদালতকে ‘কলঙ্ক’ ও ‘বিদেশি স্বার্থে প্রভাবিত’ বলে আক্রমণ করেছেন তিনি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প আইনের দোহাই দিয়ে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপেরও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

আদালতের রায় ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ব্যবধানের রুলিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছেন, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে এভাবে ঢালাও শুল্ক আরোপ করা যায় না।

এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প উদারপন্থি বিচারপতিদের ‘দেশের কলঙ্ক’ এবং তার পক্ষে না থাকা রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংবিধানের প্রতি ‘অদেশপ্রেমিক ও অনুগত নয়’ বলে অভিহিত করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘শুল্ক আরোপের অধিকার আমার আছে এবং সবসময়ই ছিল।’

বিকল্প পথে পাল্টা আঘাত

আদালত আইনি পথ বন্ধ করলেও ট্রাম্প ১৯৬২ সালের ‘ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

আগামী তিনদিনের মধ্যেই এই নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা আগামী ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ মাস বিভিন্ন দেশের ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’ নিয়ে তদন্ত করা হবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে আরও স্থায়ী বা উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

অর্থনীতিতে প্রভাব ও অনিশ্চয়তা

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্য বলছে, সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে কার্যকর শুল্কের হার ১২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই জেদ মার্কিন অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলবে। সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি-র সিনিয়র ফেলো র‍্যাচেল জিয়েম্বা বলেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় বাধা, কারণ এখন চাইলেই দ্রুত শুল্ক কার্যকর করা কঠিন হবে।

কূটনৈতিকে অস্ত্র হিসেবে শুল্ক

গত এক বছরে ট্রাম্প কেবল রাজস্ব আদায়ের জন্য নয়, বরং বিভিন্ন দেশকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি মানতে বাধ্য করতেও শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি।

এখন আইনি লড়াইয়ে শুল্কের ক্ষমতা কিছুটা খর্ব হওয়ায় ট্রাম্প অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক শক্তির দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *