নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে একদল সশস্ত্র ব্যক্তির হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে; হামলাকারীরা অনেক নারী ও শিশুকে অপহরণও করেছে বলে জানিয়েছেন এক আইনপ্রণেতা।
বুক্কুইয়াম দক্ষিণের প্রতিনিধিত্ব করা ওই আইনপ্রণেতা হামিসু ফারু জানান, হামলাকারীরা বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে তুংগান দুতসে গ্রামে হানা দেয়, তাদের হামলা শুক্রবার ভোরের আগে রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলে।
এ সময়ের মধ্যে মোটর সাইকেলে করে যাওয়া হামলাকারীরা একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাসিন্দাদের তুলে নিতে থাকে। যারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
“তারা এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাচ্ছে, অন্তত ৫০ জনকে মৃত অবস্থায় ফেলে গেছে তারা,” টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেন ফারু।
কতজনকে অপহরণ করা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্মকর্তারা নিখোঁজদের সংখ্যা বের করতে কাজ করছেন।
এ প্রসঙ্গে রয়টার্স জামফারা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্রের মন্তব্য চেয়ে ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
তুংগান দুতসে গ্রামের বাসিন্দা, ৪১ বছর বয়সী আবদুল্লাহ সানি বলেছেন, হামলায় তার পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।
“কাল রাতে কেউ ঘুমায়নি, সবাই কষ্টের মধ্যে আছে,” শুক্রবার এমনটাই বলেন তিনি।
একদিন আগে সশস্ত্র ব্যক্তিদের বহন করা দেড়শর বেশি মোটর সাইকেলের বহর দেখার পর গ্রামটির বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু তারা ওই সতর্কতায় কান দেয়নি, বলেছেন সানি।
নাইজেরিয়ার নিরাপত্তাহীনতাজনিত উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে, স্থিতিশীলতা ফেরাতে দেশটির সরকারের ওপর ব্যাপক চাপও রয়েছে।
আফ্রিকার এ দেশটির উত্তরাঞ্চলজুড়ে সম্প্রতি ‘ডাকাতদের’ হামলার পরিমাণও বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এ ‘ডাকাতরা’ একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে, মুক্তিপণের জন্য অনেককে অপহরণ করছে, বিভিন্ন সম্প্রদায়কে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছে।
সূত্র: রয়টার্স








