শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সবশেষ

যেকোনো সময় আক্রমণ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরানও

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশই আরও তীব্র হচ্ছে। অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সামরিক মহড়া, রণতরী আর আধুনিক সব যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় যুদ্ধ বাধার শঙ্কা ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে।

তবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কিংবা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি-ধমকিতে ভীত হয়ে বসে নেই ইরানও। কূটনৈতিকভাবে সঙ্কট সমাধানের জন্য আলোচনার টেবিলে বসার পাশাপাশি, সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত রাখার দাবি করেছে দেশটি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের দাবি, স্থাপনাগুলোকে আরও বেশি নিরাপদ এবং শক্তিশালী দেখাচ্ছে।

এছাড়াও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করেছে ইরান। তবে, ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধে ফাইটার জেট এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বেশ ভুগতে হয়েছে দেশটিকে। সেজন্য, সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে, ফাইটার জেট ক্রয় এবং রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় বিমান ঘাঁটিগুলো মেরামত করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো আকস্মিক হামলার ক্ষেত্রে সেগুলো কার্যকর থাকে এবং র‍্যাপিড কাউন্টার-অ্যাটাক করা যায়।

ইরানের সেমনান প্রদেশের বৃহত্তম শহর শাহরুদে রয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র। সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা বিবেচনা করে শাহরুদের দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধকালীন সময়ে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে ইরান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন এই কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আগের চেয়ে দ্রুত ও বেশি পরিমাণে সম্ভব।

যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি, ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিরা জেনেভায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনায় বসেছেন। তবে কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

ইরানের নতুন গঠন করা ‘ডিফেন্স কাউন্সিল’ যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি জোরেশোরে শুরু করছে। সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার আলী শামখানি এই কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তার উদ্দেশ্য, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং উদীয়মান হুমকির মোকাবেলার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এদিকে, পারস্য উপসাগরে জোরেশোরে মহড়া চালাচ্ছে ইরানের নৌবাহিনী। সম্প্রতি, রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়াও করেছে দেশটি। বিশেষ করে, স্ট্রেইট অফ হরমুজে সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জলপথে তেল পরিবহনের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও ইরানের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনও কঠোরভাবে দমন করেছে দেশটির সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিচ্ছে যে, কোনো যুদ্ধ হলে তা কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিকভাবে ও কৌশলগতভাবে ক্ষতি হতে পারে।

তবে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে দেখা দিতে পারে অস্থিরতা। এছাড়াও পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে সংঘাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *