রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলন এক করে দেখা উচিত হবে না

মহান মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের মূল ভিত্তি—এমন কথা পুনর্ব্যক্ত করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামকে এক করে দেখা উচিত নয়। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ত্যাগের মাত্রা অনন্য এবং এটিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটের আন্দোলনের সঙ্গে সমতুল্য করা উচিত হবে না।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার রাজনৈতিক অপব্যবহার হয়েছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের একটি অংশ প্রকৃত ইতিহাস জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম ত্যাগ, কষ্ট ও সংগ্রামের প্রকৃত চিত্র অনেক তরুণের কাছেই অজানা রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধই এই রাষ্ট্রের জন্মের ভিত্তি। স্বাধীনতার ইতিহাসকে সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকৃত বা খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হলে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হতে পারে।

সভায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই, তথ্য হালনাগাদ এবং সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভুয়া বা বিতর্কিত তালিকা চিহ্নিত করে সংশোধনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জামুকার সদস্যবৃন্দ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রামাণ্য নথি সংরক্ষণের উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *