মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডাক্তারি পড়তে চাপ দেওয়ায় বাবাকে হত্যা করল ছেলে

উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। শহরের অভিজাত আসিয়ানা এলাকায় ২১ বছর বয়সী এক যুবক তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করেন এবং দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে নীল প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রাখেন। পুলিশ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) অভিযুক্ত অক্ষত সিংকে গ্রেফতার করে এবং ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ প্রকাশ করে।

পুলিশ জানায়, নিহত মানবেন্দ্র সিং (৪৯) পেশায় মদ ব্যবসায়ী এবং একটি প্যাথলজি ল্যাবের মালিক ছিলেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পড়াশোনা নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। মানবেন্দ্র চাইছিলেন, ছেলে বিকম ছেড়ে নেট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ডাক্তার হোক, কিন্তু অক্ষত এতে রাজি ছিলেন না। তর্কের এক পর্যায়ে অক্ষত তার বাবাকে লাইসেন্সকৃত রাইফেল দিয়ে গুলি করেন। এই হত্যাকাণ্ডের সময় ছোট বোন উপস্থিত ছিলেন। পরে অক্ষত হুমকি দেন, কেউ ঘটনার কথা জানালে তাকে মারাও হবে।

হত্যার পর অক্ষত প্রমাণ লোপাটের জন্য বাড়ির তিনতলা থেকে দেহ নামিয়ে ঘরোয়া যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে খণ্ড খণ্ড করে শহরের উপকণ্ঠের একটি নির্জন স্থানে কিছু অংশ ফেলে দেন। ধড় ও মাথা নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাড়ির নিচতলায় একটি কক্ষে লুকিয়ে রাখা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অক্ষত এক বছর আগে মিরাটে ঘটানো ‘ড্রাম মার্ডার’ কেস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই পরিকল্পনা করেছিলেন। মানবেন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অক্ষতের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সন্দেহ জোরালো হয়। বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নীল ড্রাম উদ্ধার করা হয়। প্রথমে আত্মহত্যার গল্প সাজালেও কড়া জেরার পর অক্ষত হত্যার পরিকল্পনা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, মানবেন্দ্রের স্ত্রী নয় বছর আগে মারা গেছেন এবং তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সন্তান ছিলেন। এই ঘটনায় লখনউ জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *