যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় সাত মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, সম্ভাব্য সংঘাত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। দুই দেশের মধ্যে আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৩ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭১.২০ ডলারে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩৮ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৬৬.০১ ডলারে ওঠে। ব্রেন্ট গত শুক্রবার জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ এবং ডব্লিউটিআই সোমবার আগস্টের পর সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে বড় ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ হয়েছে এবং নতুন যেকোনো পরিস্থিতিতে দাম সংবেদনশীল থাকবে।
বৃহস্পতিবার জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদলের তৃতীয় দফা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলে চুক্তি সম্ভব।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি না হলে খুব খারাপ পরিণতি হতে পারে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শর্ত মানবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উত্তেজনার মধ্যেই ইরান চীনের কাছ থেকে অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনা ত্বরান্বিত করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ বেশি থাকার আশঙ্কাও রয়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত ১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। যদিও পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র : রয়টার্স








