ইরানের বিপক্ষে সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্যে আসা যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পড়েছে ভয়াবহ সমস্যায়। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ওই সমস্যায় ধুঁকছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ‘ঘোস্ট মোডে’ থাকায় মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন অনেকে।
গত বছরের জুন থেকে টানা সমুদ্রে রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয়বারের মতো এ জাহাজ মোতায়েনের সময়সীমা বাড়িয়েছে। এতে জাহাজে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে—টয়লেট বিকল হয়ে যাওয়া, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জটিল হয়েছে।
জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফোর্ড। সেই মিশনের পর নাবিকরা জানতে পারেন, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাদের মোতায়েন আরও বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে তারা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে যোগ দেবে। সাধারণত শান্তিকালে একটি বিমানবাহী রণতরীর মোতায়েনকাল ৬ মাস। অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমেরির বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ফোর্ডের নাবিকরা ইতোমধ্যে ৮ মাস সমুদ্রে কাটিয়েছেন এবং এই সময়সীমা ১১ মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে। যা হলে এটি হবে মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজের টানা মোতায়েনের রেকর্ড।
টয়লেট ও পাইপলাইনের সংকট
টানা ৮ মাস সমুদ্রে থাকার ফলে জাহাজের যন্ত্রপাতিতে চাপ পড়ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন পিছিয়ে যাওয়ায় নানা ত্রুটি দেখা দিয়েছে। জানুয়ারিতে এনপিআর এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই রণতরীর টয়লেটগুলোর অনেকগুলোই অচল হয়ে পড়েছে। নাবিকরা দিনরাত কাজ করে লিকেজ মেরামত করছেন।
ভ্যাকুয়াম-ভিত্তিক পদ্ধতির কারণে একটি টয়লেটে সমস্যা হলে ওই অংশের সব টয়লেটই অকেজো হয়ে যায়। পাইপলাইনে টি-শার্ট থেকে শুরু করে চার ফুট লম্বা দড়ির টুকরো পর্যন্ত আটকে থাকতে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হচ্ছে টয়লেটের পেছনের একটি অংশ ঢিলা হয়ে যাওয়া।
নাবিকদের ব্যক্তিগত সংকট
জাহাজে থাকা এক নাবিক জার্নালকে জানান, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে অনেকেই ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের অনেকে দায়িত্ব শেষ হলেই নৌবাহিনী ছাড়তে চান।
জাহাজের অধিকাংশ নাবিকই বিশের কোঠার তরুণ-তরুণী। দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং ‘ঘোস্ট মোডে’ (অবস্থান গোপন রাখার জন্য যোগাযোগ সীমিত থাকা) থাকার কারণে তারা স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও করতে পারছেন না।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। একটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ। মধ্যপ্রাচ্যে একই সময়ে দুইটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি খুবই বিরল ঘটনা।








