খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক Anthropic-এর এআই মডেল ‘ক্লড’ ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি তথাকথিত ‘কিল চেইন’ বা লক্ষ্য শনাক্তকরণ থেকে আইনি অনুমোদন ও হামলা চালানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে।
এআই নিয়ে গবেষণাকারী একাডেমিকদের মতে, জটিল হামলার পরিকল্পনার সময় দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ডিসিশন কমপ্রেশন’।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ভূগোলের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ক্রেইগ জোনস বলেন, “এআই মেশিন লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে সুপারিশ দিচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তার গতির চেয়েও দ্রুত।
লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড লেসলি বলেন, এটি সামরিক কৌশল ও প্রযুক্তির নতুন যুগ।
ইরান নিজস্ব সামরিক ব্যবস্থায় কী ধরনের এআই ব্যবহার করছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে ২০২৫ সালে তারা দাবি করেছিল যে ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য নির্ধারণে এআই ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের এআই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায় অনেক সীমিত।
ইরান হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছিল, পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা মার্কিন নাগরিকদের নজরদারিতে এআই ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় অ্যানথ্রপিককে তাদের সিস্টেম থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহারে থাকছে। অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকের প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই পেন্টাগনের সঙ্গে সামরিক প্রয়োজনে নিজেদের মডেল ব্যবহারের চুক্তি করেছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক প্রেরণা জোশি বলেন, এআই ব্যবহারের বিস্তার ঘটছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা খাতে লজিস্টিকস, প্রশিক্ষণ, সিদ্ধান্ত ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সব জায়গায় এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি যোগ করেন, এআই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ায় এবং দ্রুতগতিতে ডেটা বিশ্লেষণ করে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই যুদ্ধক্ষেত্রে অভূতপূর্ব গতি ও সক্ষমতা এনে দিলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা ও মানবিক বিবেচনার গুরুতর প্রশ্ন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








