বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের শাহেদ ড্রোনে নাজেহাল হতে পারে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক ড্রোন অভিযান চালাচ্ছে। তারা কম খরচের একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন- যেগুলোকে মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) বলা হয়- ঝাঁকে ঝাঁকে পশ্চিমা-সম্পৃক্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করছে, যাতে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিমাত্রায় খরচ চাপানো’ যায় বলে এক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন।

তেহরান এই অঞ্চলজুড়ে হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন ছুড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ভূগর্ভস্থ মজুতের ভিডিও প্রকাশ করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ড্রোন নির্মাতা ও প্রযুক্তি কোম্পানি ড্রাগানফ্লাইয়ের সিইও ক্যামেরন চেল বলেন, ইরানের এই কৌশলের উদ্দেশ্য হলো সস্তা আকাশীয় হুমকির মোকাবিলায় উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করতে বাধ্য করা।

তিনি বলেন, ‘এই ড্রোনগুলোর মধ্যে মাত্র ১০০টি যদি কোনো বিকেন্দ্রীকৃত ইউনিটের হাতে থাকে, তবে তারা প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রে আগে কল্পনাও করেনি- এমন সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে’।

চেল ফক্স নিউজকে বলেন, ‘ইরান এসব ড্রোন দিয়ে যুদ্ধে জিততে পারবে না, কিন্তু (ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ের কমিউনিস্ট) ভিয়েত কংয়ের মতো তাদের এমন এক অসামঞ্জস্যপূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে, যা এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পারে এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান অকল্পনীয় উপায়ে সন্ত্রাস ছড়াতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গুণোত্তর খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।’

ইরানি ড্রোনগুলো যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে, তা প্রমাণিত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কুয়েতে একটি ট্যাকটিক্যাল সেন্টারে হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের একটি সিআইএ স্টেশন ইরানি ড্রোন হামলার শিকার হয়। এতে সীমিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌঘাঁটি থেকে প্রায় এক মাইল দূরে এরা ভিউ টাওয়ারের উপরের তলায় আঘাত হানে ড্রোন। এগুলো ইরানি শাহেদ মডেলের ড্রোন বলে চিহ্নিত হয়েছে।

এছাড়া একটি ইরানি ড্রোন দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে একটি পার্কিং লটে আঘাত হানে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা লক্ষ্যবস্তু করে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো প্রতিহত করেছে।

দুবাই কনস্যুলেট হামলার ভিডিও সম্পর্কে চেল বলেন, ‘ইঞ্জিনের শব্দ, সম্ভাব্য আক্রমণের কোণ এবং আনুমানিক গতির ভিত্তিতে, আমার জানা মতে এটি ছিল শাহেদ-শ্রেণির একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন।’ তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ভিডিওতে সম্ভবত ‘শাহেদ ১৯১’ মডেলটি দেখা গেছে।

ফার্স নিউজ অ্যাজেন্সি আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যাতে ইরানে বিস্তীর্ণ ভূগর্ভস্থ স্থানে ড্রোনের মজুত দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

চেল এই মজুতি ভিডিও সম্পর্কে বলেন, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে এত পরিমাণে ড্রোন উৎপাদনের ক্ষমতা ইরানের কাছে এখন আছে কি না তা নিশ্চিত করা কঠিন। যত পরিমাণে তারা এগুলো উৎপাদন করছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাশিয়ায় সরবরাহের জন্য- যা অসম্ভব মনে হচ্ছে না। তবে, ভূগর্ভস্থ প্রচার ভিডিওতে থাকা ড্রোনগুলো শাহেদ ১৯১’।

কার্নেগি আন্তর্জাতিক শান্তি তহবিল-এর একটি নতুন রিপোর্টও খরচ ও পরিসরের বিষয়ে চেলের মন্তব্যের দিকে আলোকপাত করেছে। এই সংস্থাটির সিনিয়র ফেলো দারা মাসিকট বলেন, ‘এখন ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণাত্মক ড্রোনের মিশ্রণ ব্যবহার করছে। এই পদ্ধতিগুলো কার্যকর, তবে ড্রোনকে এইভাবে লক্ষ্যবস্তু করা সম্পদ-নির্ভর এবং ব্যয়বহুল। এটি কিছু ধরণের ইন্টারসেপ্টর দ্রুত শেষ করে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অফুরন্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদার ও মিত্রদের এ ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে মজুত সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’

অন্য সিনিয়র ফেলো স্টিভ ফেল্ডস্টাইন বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ব এখন ড্রোন যুদ্ধের নতুন যুগে প্রবেশ করছে, কারণ মানববিহীন বিমান যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ও ছোট উভয় সংঘাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।’ -ফক্স নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *