সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষের বাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ, নারী-শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ১৫

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে রাতের অন্ধকারে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ নারী, ৬ শিশু ও ৪ বৃদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের মধ্যে মিনু বেগম ও মিজানুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।রোববার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে পূর্ব বিরোধের জেরে স্থানীয় হারুন খাঁন ও মান্নান খাঁনের সঙ্গে একই এলাকার একই বংশের মিজান খাঁনের বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় মান্নান বন্দুক দিয়ে মিজানকে আঘাত করে। বিষয়টি জানাজানি হলে মিজানের বাবা খোরশেদ খান মান্নানকে গালিগালাজ করলে এতে মান্নান খিপ্ত হয়ে দলবলসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিজানের বাড়িতে হামলা চালায় ও এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করে।

এ সময় অতর্কিত গুলিতে বাড়িতে থাকা মিজানুর রহমান, মিনু বেগম, জয়তন বেগম, কাজল বেগম, ইভা, বন্যা, নুপুর বেগম, আয়ান, ফাহিমা, দোলন, আলামিন, খোরশেখ খা, মোস্তাকিম, ইদ্রিস খাঁ ও সাফি বেগম গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

এ সময় আহতদের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মান্নানের লোকজন ফাকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়। পরে আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাতেই ১১ জনকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

এছাড়া অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জয়তুন বেগম ও মিনু বেগমকে পাশের দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাদের দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মো. ফিরোজ কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে একই বংশের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে ঘটনাটি ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোঁড়া গুলিতে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *