বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

সবশেষ

নিখোঁজ ৬টি পারমাণবিক বোমা, উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি। কয়েক দশক ধরে নিখোঁজ থাকা অন্তত ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে একাধিক দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয়টি পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়ে যায়, যেগুলোর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সামরিক পরিভাষায় এ ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘ব্রোকেন অ্যারো’। অর্থাৎ দুর্ঘটনার কারণে পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়ে যাওয়া বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনাকে এ নামে উল্লেখ করা হয়। মার্কিন সামরিক নথি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ৩২টি ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটনার রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এখনো নিখোঁজ।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ১৯৫৮ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের টাইবি দ্বীপের কাছে আকাশে দুটি মার্কিন সামরিক বিমানের সংঘর্ষ হয়। একটি বি-৪৭ স্ট্রাটোজেট বোমারু বিমান তখন একটি সম্পূর্ণ সশস্ত্র মার্ক-১৫ হাইড্রোজেন বোমা বহন করছিল।

সংঘর্ষের পর বিস্ফোরণের ঝুঁকি এড়াতে পাইলট জর্জিয়ার উপকূলের কাছে ওয়াসাউ সাউন্ড এলাকায় সমুদ্রে বোমাটি ফেলে দেন। প্রায় ৭ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের এই মার্ক-১৫ বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৮ মেগাটন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা ‘ফ্যাট ম্যান’ বোমার তুলনায় প্রায় ১৯০ গুণ বেশি শক্তিশালী। দুর্ঘটনার পর একাধিকবার অনুসন্ধান চালানো হলেও বোমাটি আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিকভাবে মার্কিন বিমান বাহিনী দাবি করেছিল, বোমাটি উড্ডয়নের আগে এর প্লুটোনিয়াম ওয়ারহেড সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে সীসা বসানো ছিল। তবে ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত একটি কংগ্রেসনাল নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, টাইবি দ্বীপের কাছে হারানো মার্ক-১৫ আসলে সম্পূর্ণ কার্যকর একটি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল।

এ ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে ১৯৬৬ সালে। তখন দুটি মার্কিন সামরিক বিমানের সংঘর্ষের পর ভূমধ্যসাগরে একটি বি-২৬ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা হারিয়ে যায়। সেই বোমার ওয়ারহেডও আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই নিখোঁজ পারমাণবিক অস্ত্রগুলো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এগুলো যদি কোনো শত্রু রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইসের মতে, সামরিক হামলা যদি ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে না পারে, তাহলে দেশটি আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তার ভাষ্য, প্রযুক্তি পুরোনো হলেও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার মতো পথ বেছে নিতে পারে, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনকে বেছে নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *