বিশ্ব কিডনি দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এই দিবসটি পালন করা হয়।
চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সুস্থ কিডনি সবার তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’। কিডনি রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।
গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ১৬-২২ শতাংশ কোনো না কোনো মাত্রার দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগে আক্রান্ত, যাঁদের একটি বড় অংশই তা জানেন না। আসুন এই দিনে জেনে নিই কীভাবে আমরা কিডনি সুস্থ রাখতে পারি।
বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক প্রচারণা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে মাসব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। এই ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করবেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশেও এই রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে ভুগছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দারিদ্র্য, অসচেতনতা, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবার অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, নেফ্রাইটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার, জন্মগত ও বংশগত কিডনি রোগ, মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ এবং পাথর রোগ কিডনি বিকলের অন্যতম কারণ।
বর্তমানে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার কিডনি রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এ ছাড়া প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হচ্ছে।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কিডনি রোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর কারণ হিসেবে অষ্টম স্থানে রয়েছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৪০ সালের মধ্যে এই রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থানে উঠে আসতে পারে।
তাই কিডনি রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুস্থ জীবনযাপন এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।








