শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের হামলায় সৌদিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের হামলায় সৌদি আরবে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি উড়োজাহাজই সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস–এর। এসব বিমান মূলত আকাশে উড্ডয়নরত যুদ্ধবিমানকে মাঝপথে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উড়োজাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি এবং মেরামত করে আবারও ব্যবহার করা সম্ভব। এ ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হয়নি বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে গত শুক্রবার ইরাক–এর পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি–১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট ও সহ-পাইলটসহ মোট ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন এবং বাকি দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

রিফুয়েলিং বিমান আকাশে থাকা যুদ্ধবিমানকে মাঝপথে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হয়। গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী নিয়মিত এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে এবং সামরিক অভিযানে এগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটন–এর মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন আলোচনা চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।

এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন রোরিং লায়ন নামে আলাদা সামরিক অভিযান শুরু করে।

এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে শুরু করে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান–এ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র : রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *