মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও এতে সাময়িকভাবে লাভবান হচ্ছে রাশিয়ার অর্থনীতি। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটির আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফেডারেল বাজেটের ঘাটতি কমাতে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তেল নয়—প্রাকৃতিক গ্যাস ও সারের বৈশ্বিক সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণেও রাশিয়ার জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী বেন কাহিল বলেন, ইরান সংঘাতের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী এখন রাশিয়া। আগে ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি করলেও বর্তমানে তারা বাজারমূল্যে বিক্রি করতে পারছে।
কার্নেগি সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো সের্গেই ভাকুলেঙ্কোর হিসাব অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়ার উরাল তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় দ্বিগুণ। এতে মাসটিতে অতিরিক্ত প্রায় ৮৫০ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যার বড় অংশ রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা পড়ছে।
একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও কিছুটা কমেছে। ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে রুশ তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। ফলে ভারতসহ বড় ক্রেতারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে।
এছাড়া সার ও প্রাকৃতিক গ্যাস খাতেও রাশিয়া নতুন সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার রপ্তানিকারক হিসেবে দেশটি ইতিমধ্যে বেশি অর্ডার পাচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলোও গ্যাস নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো–অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরে রাশিয়ার মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হবে। দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের ব্যয়, ঋণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাত রাশিয়ার অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








