দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রায়হান বকসী এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন স্থানীয় ব্যক্তি— মো. আফতাব আলম, মো. শাহাবউদ্দিন, মো. হাফিজ উদ্দিন লালখা ও অখিল চন্দ্র।
তবে অভিযুক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘ওরা যে খতিয়ানটা দিয়েছে সেটা নিয়ে আদালতে জাজমেন্ট আছে, ওরা ( দুদক) বলছে সঠিক নয়, আদালত বলছে সঠিক।
রয়েছে। এছাড়াও এলএ কেস নং-০১/২০১৫-২০১৬ এর মিসকেস নম্বর- ১৪/১৭ এর আদেশপত্রে মো. হাফিজ উদ্দিন লালসা ও মোছা. হাফিজা খাতুন এর অনুকূলে ০.১৩ একর এবং সুধীর চন্দ্র দেবনাথ এর অনুকূলে ০.২০ একর জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করার আদেশ দেওয়া হয়। সুতরাং, ৭ ধারার নোটিশ ও আদেশপত্র মোতাবেক ১৪৫৯ দাগে অখিল চন্দ্র-এর নামে কোনো জমি নেই এবং তাকে জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও ২০১৭ সালের ৯ জুলাই আসামি অখিল চন্দ্র-এর নামে ১৪৫৯ দাগের ০.২০ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৭ টাকা এবং ১৪৬০ দাগের ০.০৫ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৮৫৪ টাকা মোট ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ২৭৯ টাকা টাকার এলএ চেক নম্বর-০০৮০৬২৫ ইস্যু করা হয় এবং উক্ত কাজকে বৈধ করার জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে না দাবিপত্র ও অঙ্গীকারনামা এলএ কেস নথিতে দাখিল করেন।
অর্থাৎ অখিল চন্দ্রের নামে কোনো জমি না থাকলেও জাল কাগজপত্র তৈরি করে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
দুদক বলছে, ৭ ধারার নোটিশে ১৪৬৭ দাগের অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকানা ও জমির পরিমাণ মুকুল চন্দ্র রায় এর নামে ০.০৮ একর, মধু চন্দ্র দেবনাথ ও নাড়ু চন্দ্র দেবনাথ ০.০৯ একর এবং মো. আফতাব আলম এর নামে ০.০৮ একরসহ মোট ০.২৫ একর জমির মালিকানা উল্লেখ থাকলেও অনুসন্ধানে দেখা যায়, মো. আফতাব আলমের অংশের ০.০৮ একর জমির মালিকানার পরিবর্তে আসামি (৪) মো. শাহাবউদ্দিন এর অনুকূলে ০.০৮ একর জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করার আদেশ প্রদান করা হয়। আদেশপত্র অনুযায়ী, ১৪৬৭ নম্বর দাগে আসামি মো. আফতাব আলম এর নামে জমি না থাকা সত্ত্বেও তার নামে ১৪৬৭ দাগের ০.০৮ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১২ লাখ ২২ হাজার ১৬৬ টাকা এবং ১৪৬০ দাগের ০.০৩ একর জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩১২ টাকাসহ মোট ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৭৯ টাকার এলএ চেক নং-০০৮০৬২৪ ইস্যু করা হয়। ১৪৬৭ নম্বর দাগের ক্ষেত্রেও প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে মো. আফতাব আলমের নামে ১২ লাখ ২২ হাজার টাকা প্রদান করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এসব অনিয়মকে বৈধতা দিতে ‘না-দাবি পত্র’ ও ‘অঙ্গীকারনামা’ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে সংশ্লিষ্ট এলএ কেস নথিতে সংযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত শরীফ আহম্মেদ চেক প্রস্তুত করেন এবং সুফল চন্দ্র গোলদার তাতে স্বাক্ষর করেন, আর অন্যান্য আসামিরা তা গ্রহণ করেন।
দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রায়হান বকসী বলেন, ‘দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলাকালে আরও কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








