২০২৫ সালে দেশের শ্রমবাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে ১১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী কর্মীও রয়েছেন। সরকারের উদ্যোগ, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ফলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে এই ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। রোববার প্রশ্নোত্তর পর্বে যেসব বিষয় উত্থাপিত হয়-
শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও কূটনৈতিক তৎপরতা
মন্ত্রী জানান, বিদেশে কর্মী পাঠানো একটি চলমান প্রক্রিয়া। মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিসেলস, পর্তুগাল ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত কর্মী পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে কর্মী পাঠানো বিষয়ে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সই হয়েছে।
জাপান বাজারে বিশেষ গুরুত্ব
জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আইএম জাপান’-এর আওতায় টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। আগামী ৫ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। জাপানি ভাষায় দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে এবং বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানে ‘স্পেশালাইজড স্কিলড ওয়ার্কার’ পাঠানোর ক্ষেত্রে নবম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ
আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার দেশজুড়ে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে (আইএমটি) ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এছাড়া ১ লাখ চালক তৈরির লক্ষ্যে ‘দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্প সফলভাবে চলছে।
ভাষাগত দক্ষতা ও স্কিল ভেরিফিকেশন
মন্ত্রী আরও জানান, বিদেশ গমনেচ্ছুদের ভাষাগত সমস্যা দূর করতে জাপানিজ, কোরিয়ান, ইংরেজি, চাইনিজ, আরবি, ইতালিয়ান ও জার্মান ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে ‘নেটিভ স্পিকার’ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে গমনেচ্ছুদের জন্য ‘তাকামল’কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ২৯টি প্রতিষ্ঠানে ৭৯টি অকুপেশনে স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে, যার সনদ নিয়ে কর্মীরা সৌদি আরব যাচ্ছেন।
স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানো সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বোয়েসেল’-এর মাধ্যমে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিজি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত স্বল্প বা শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়মিত কর্মী পাঠানো হচ্ছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসী খাতকে সমৃদ্ধ করতে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।








