বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটযুদ্ধ, সংসদে ব্যালট দিচ্ছেন ৩৪৯ এমপি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবার আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। দুপুর ২টা থেকে সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট দিচ্ছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

ভোট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। পরে ভোট দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রাষ্ট্রপতি পদে এবার মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ। তবে অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় নিজে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী তিনিই নির্বাচনী কর্তা হিসেবে পুরো ভোটপ্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন।

ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বুঝিয়ে দেন সিইসি। বিশেষ বৈঠকে তিনি ব্যালট গ্রহণ থেকে শুরু করে তা বাক্সে জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। সবশেষে ব্যালটটি নির্দিষ্ট বাক্সে জমা দেবেন তারা।

বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে ব্যালট গণনা। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

বিশেষ বৈঠকে বসেছে সংসদ
সংসদের নিয়মিত অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে নিজ নিজ আসনে বসেই ভোট দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হওয়ায় এই নির্বাচনে ভোটার। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে পৃথক আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সংসদ সদস্য হওয়ায় ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যাবে। অন্যদিকে অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোটার তালিকায় তার নাম নেই।

এবার ভাঙল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাবাহিকতা
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই প্রথম সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

ফলে প্রায় তিন দশক ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বা সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীর একক প্রার্থিতা কার্যত নিয়মে পরিণত হয়েছিল। এবার সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি পদে এবার সরাসরি ভোটের লড়াই তৈরি হয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। এবারের নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে যে প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

অর্থাৎ কয়েক দশক পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আবারও সংসদে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপ নিয়েছে। এখন ৩৪৯ সংসদ সদস্যের ব্যালটেই নির্ধারিত হবে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব কে নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *