রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব, প্রশ্ন বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে ডেকেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কিছু জানত না বলে আগেই জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফলে ঘটনার পর এখন দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহে নেমেছে সরকার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াকে ডেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আজেল নিউজ’ এ খবর প্রকাশ করে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিথি আক্তার।

অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চায় ঢাকা
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে আটক করে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, মামলার নথি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক এখনো অস্পষ্ট।

এ কারণেই সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনায় কী তথ্য পাওয়া গেছে বা সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

মৃত্যুদণ্ডের আগে কিছু জানত না বাংলাদেশ
এর আগে, ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তাদের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের হাতে ছিল না।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিছুই জানত না। তিনি আরও বলেছিলেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইন ও বিচারিক কাঠামো রয়েছে। দেশটিতে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশের করণীয় অনেক ক্ষেত্রে সীমিত থাকে।

একই সঙ্গে ঘটনাটিকে প্রবাসীদের জন্য বড় শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

এখনো যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের পর আদালতে বিচার হয়েছে এবং রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, মামলার প্রমাণ, বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ দূতাবাসকে কোনো তথ্য জানানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো সামনে আসেনি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এসব তথ্য চাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে পবিত্র স্থান ও মসজিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। পবিত্র স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *