শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সবশেষ

বিপজ্জনক পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়া অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেবে না যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে সরকার দেশটিতে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতে চায়। এর জন্য যুক্তরাজ্য সরকার তার জাতীয়তা নীতিতে পরিবর্তন এনেছে যার ফলে বিপজ্জনক পথ দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা অভিবাসীদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব দাবি করা প্রায় অসম্ভব। নতুন ব্যবস্থায় ছোট ছোট নৌকা পারাপারের মাধ্যমে ও অন্যান্য অবৈধ উপায়ে যারা যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করবেন তারা ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারবেন না। আগে তাদের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হতো, তারপর নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারতেন। কিছু লেবার এমপি ও শরণার্থ সংস্থা যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলছেন, এটা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে।

একজন অভিবাসন আইনজীবী প্রথম লক্ষ্য করেছেন যে, যুক্তরাজ্যের হোম অফিস সম্প্রতি তার “ভাল চরিত্রের প্রয়োজনীয়তা” এর বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন এনেছে। এটি এমন একটি নথি যা জাতীয়তা আবেদনের বিষয়ে অভিবাসন কর্মীদের দিকনির্দেশনা দেয়। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে-

‘যদি কোনও ব্যক্তি ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন এবং এর আগে প্রয়োজনীয় বৈধ প্রবেশ ছাড়পত্র বা বৈদ্যুতিন ভ্রমণের অনুমোদন ছাড়াই বিপজ্জনক যাত্রা করেছেন তবে সাধারণত নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করা হবে।

ব্রিটিশ সরকার বলছে, ‘বিপজ্জনক যাত্রার’ মধ্যে রয়েছে ছোট নৌকায় ভ্রমণ করা বা গাড়িতে লুকিয়ে থাকা। যারা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। লেবার পার্টির রাজনীতিবিদ স্টেলা ক্রিসি সরকারকে এই নীতি পরিত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেন-

 শরণার্থীদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানো ঠিক হতে পারে না।

এদিকে, রিফিউজি কাউন্সিলের সিইও এনভার সলোমন বলেছেন, এই পদক্ষেপ ‘যুক্তির মুখে উড়ে যায়’। তিনি বলেন,

‘বহু প্রজন্ম ধরে এত শরণার্থী চিকিৎসক, উদ্যোক্তা ও অন্যান্য পেশাজীবী হিসেবে গর্বিত, কঠোর পরিশ্রমী ব্রিটিশ নাগরিকে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিক হয়ে ওঠা তাদের সম্প্রদায়কে ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করেছে এবং এটি উদযাপন করা উচিত, প্রতিরোধ নয়। আমরা মন্ত্রীদের জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর প্রথম সাত মাসে ছোট নৌকায় পার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ আগের বছরের একই তারিখের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এটাকে নিরুৎসাহিত করতে চান। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে, সরকার অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের সন্দেহভাজন ব্যবসায়গুলোতে অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সরকারও মানব পাচারকারীদের টার্গেট করার জন্য পুলিশকে আরও ক্ষমতা দিতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *