সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

খেলতে যেতে মানা করলেন মমতা ব্যানার্জি

মমতা ব্যানারজি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বনগাঁর সভায় যাওয়ার জন্য নির্ধারিত হেলিকপ্টারটি শেষ মুহূর্তে জানিয়ে দিল—“মাফ করবেন, আজ উড়ব না!” আর তারপরই শুরু হলো মমতার ক্ষোভ, কটাক্ষ আর সেই বিখ্যাত ‘খেলতে এসো না’ সতর্কবার্তা।

মঙ্গলবার দুপুরে আকাশপথে যাওয়ার কথা থাকলেও হেলিকপ্টার যখন হঠাৎ উধাও, তখন বাধ্য হয়েই সড়কপথে দীর্ঘ রোডট্রিপে নামতে হয় মমতাকে। বনগাঁ পৌঁছাতে দেরিও হলো খানিকটা। কিন্তু সভায় দাঁড়াতেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম বাক্য—“আজ একটা মজা হয়েছে!”

তিনি জানান, বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই খবর এল—হেলিকপ্টার যাবে না। মমতার যুক্তি, পুরো বিষয়টাই রাজনৈতিক। সরাসরি অভিযোগ তুলে বললেন, বিজেপিই নাকি সব গণ্ডগোল পাকিয়েছে। তবে এতে তার ক্ষতি হয়নি বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। উল্টো বললেন—“সড়ক পথে যেতে যেতে কত লোকের সঙ্গে দেখা হলো! একদম ফ্রি-তে জনসংযোগ হয়ে গেল!”

আরও পড়ুনঃ ইতালিতে ভয়ংকর মানবপাচার চক্রের মূল হোতা বাংলাদেশি অবশেষে গ্রেফতার

এরপরেই এল সেই ভাইরাল লাইন—“আমার সঙ্গে খেলতে এসো না। আমি যে খেলাটা খেলব, তোমরা ধরতেও পারবে না!”
যেন হেলিকপ্টার না পেয়ে নিজের মুডে ফের ‘দিদি মোড’-এ ফিরে গেলেন তিনি।

তিনি জানান, সাত–আট মাস ধরেই তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহার করেননি। কিন্তু ঠাকুরনগরে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে আগেই বুক করা ছিল। এরপর সকাল ১০টার সময় জানিয়ে দেওয়া হলো—হেলিকপ্টার উড়বে না।
“অন্য কেউ হলে মাথায় হাত দিয়ে বসে যেত। কিন্তু আমি? আমি সোজা গাড়িতে চেপে রওনা দিলাম,”—এমনই সুর তার কণ্ঠে।

বিজেপিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে মমতা বলেন—“ভোট এখনও চার–পাঁচ মাস বাকি, আর এখন থেকেই সংঘাত শুরু করে দিয়েছে! এজেন্সি লাগিয়ে, টাকা খরচ করে—কিছুই করতে পারবে না। আমাকে ছুঁতেও পারবে না।”

সিঙ্গুর আন্দোলন, ছাত্র রাজনীতি—সবই টেনে এনে বোঝালেন, তিনি লড়াইয়ের মানুষ। শেষে বনগাঁর ত্রিকোণ পার্কের সভা সেরে তিনি আবারও হাঁটা মিছিল করলেন—যেন আকাশপথ বন্ধ হলেও সড়কপথ তার কাছে শুধু বিকল্প নয়, বরং নতুন খেলার মাঠ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *