মায়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার হওয়া ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ২২ জানুয়ারি, (বৃহস্পতিবার) ২০২৬: দেশে ফিরেছেন। তারা থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানিয়েছেন, তারা দুবাই, মালয়েশিয়া বা সরাসরি ঢাকা থেকে কম্পিউটার সংক্রান্ত চাকরির প্রলোভনে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। এরপর মায়ে সট সীমান্ত হয়ে জোরপূর্বক মায়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং কঠোর ও অমানবিক পরিবেশে কাজ করানো হতো।
দেশে ফেরা ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন: মো: আব্দুল মালেক (লালমনিরহাট), হাবিবুর রহমান, রহিম বাদশা (ঢাকা), এসকে মিনহাজুল হোসেন (খুলনা), মো: মেহরাজ হাসান (নরসিংদী), রিয়াজ ফকির (ফরিদপুর), রিপন মিয়া (গাজীপুর), উলহাসায় মারমা (বান্দরবান)
মেহরাজ হাসান জানিয়েছেন, ঢাকার বাসা থেকে দুবাই ও পরে থাইল্যান্ডে আসার পর ১.৫ বছরের জোরপূর্বক কাজের কনট্রাক্টে বাধ্য করা হয়। কাজের লক্ষ্য পূরণে সামান্য ব্যর্থতা হলেও শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া হতো। রিয়াজ ফকির, রহিম বাদশা ও রিপন মিয়া একই ধরনের জোরপূর্বক চুক্তিতে বাধ্য হন এবং ভয়াবহ নির্যাতনের মুখোমুখি হন।
মিনহাজুল হোসেন জানান, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে থাইল্যান্ডে আসার পর মায়ে সট এলাকায় আটকা পড়েন। নির্ধারিত কাজ ছিল ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষের ফোন নম্বর সংগ্রহ করা। কাজের ব্যর্থতায় শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া হতো।
ভুক্তভোগীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, স্থানীয় এনজিও ‘সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক ফর ভিকটিম অ্যাসিস্ট্যান্স ইন হিউম্যান ট্রাফিকিং’ এবং ব্র্যাক সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মায়ানমার থেকে একইভাবে নিপীড়নের শিকার ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছিলেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সকলকে বিদেশে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট সংক্রান্ত চাকরির প্রলোভনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।








