মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সবশেষ

মুন্সিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত: সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ

conflict

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মো. আলমগীর (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার বালাসুর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন মার্কেটের দখলকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষে আরও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বালাসুর বাজারে একটি মার্কেট নির্মাণ করছিলেন আলমগীর ও তাঁর ভাই তমিজ উদ্দিন। ওই জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় হান্নান হাজী, মানিক ও তাপসদের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি আদালত থেকে জমির রায় আলমগীরদের পক্ষে এলেও প্রতিপক্ষ জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

আজ ভোরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ ওই জমিতে হামলা চালায়। আলমগীর ও তাঁর স্বজনরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর নির্বিচারে হামলা ও কোপানো শুরু হয়। এমনকি আহত অবস্থায় আলমগীরকে যখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে হাসপাতালের গেটেও তাঁর ওপর পুনরায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ক্যামেলিয়া সরকার জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৩ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আলমগীরসহ আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই আলমগীর মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকের মতে, তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।

তমিজ উদ্দিন (৬৫),জাহাঙ্গীর (৫৫),মো. তারেক (৩৫),তানসেল (২২),তুষার (২৪),আবদুর রহমান (২৩),আলমগীরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনরা শ্রীনগর-দোহার সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুপুর পৌনে ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রীনগর থানার ওসি জুয়েল মিয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জমি নিয়ে বিরোধের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হান্নান হাজী ও তাঁর সহযোগীরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *