বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আলোচিত প্রার্থীরা কি করবেন?

বহু বিবেচনাতেই ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে ২০২৬ সালের এই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট দেয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন- ‘ঈদ মোবারক’। তিনি এই নির্বাচনকে নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

সপরিবারে ভোটকেন্দ্রে যান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোট দেয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন- বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
ভোট দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলছেন- এক নতুন ভোরের, এক নতুন বাংলাদেশের প্রতিক্ষায়।
ভোট দেয়া শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন- আজকে ভোটের দিন, আজকে এ দেশে নিজেদের মালিকানা বুঝে নেয়ার দিন।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত আসন কোনটি? এ প্রশ্ন যদি আপনাকে করা হয় তাহলে নির্দিধায় বলবেন- ঢাকা-৮। এখানে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী। প্রচারণার পুরো সময়টাতেই কথার আক্রমণ আর প্রতি আক্রমণে সরগরম থেকেছে ঢাকা-৮। এখন দেখা যাক- নির্বাচনের ফলাফল কোনদিকে যায়।

ঢাকা-১৭। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। প্রাথমিকভাবে অসম লড়াই মনে হলেও, জামায়াত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান তার বক্তব্য এবং কর্মকান্ড দিয়ে এই আসনটিকে আলোচনায় রেখেছিলেন। এখন দেখা যাক কে জেতে? বা ভোটের ব্যবধান কত হয়?

ঢাকা-১৫ তে, দুই শফিক এর লড়াই। একজন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান। এই আসনটির দিকেও নজর আছে মানুষের। এখন দেখা যাক- কোন শফিক শেষ হাসি হাসে!

ঢাকা-৯ আসনটি এবার নির্বাচনী প্রচারণায় ভিন্ন আমেজ নিয়ে এসেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ পরিলক্ষিত হয়েছে। এই আসনে নির্বাচনের মাঠে লড়ছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারা। নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী। তার বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। আর জামায়াত মনোনিত প্রার্থী হিসেবে আছেন কবির আহমেদ। লড়াইটা এই আসনে দ্বিমুখী নয়, ত্রিমুখীও হতে পারে।

এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচন করছেন এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। তার বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম। নাহিদ ইসলামের প্রার্থীতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেছিলেন একই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ। আবার বিএনপির প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থীতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেছিলেন নাহিদ ইসলাম। এগুলোই ঢাকা-১১ আসনের আলোচিত খবর। এখন দেখা যাক- জনগণের রায় কোনদিকে যায়!

ঢাকা-১২ আসনে তিন সাইফুলের লড়াই। মজার ব্যাপার হলো- দলীয় নেতা আর জোটের সমীকরণে এমন জটিলতা তৈরি হয়েছিল যে- ঢাকা ১২ আসনের ব্যালট পেপারে ধানের শীষের প্রতীকই নেই। প্রাথমিকভাবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাইফুল আলম নীরব। পরে জোটের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে এই আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থেকে যান সাইফুল আলম নীরব। এই দুই সাইফুল ছাড়াও, আরেকজন সাইফুল আছেন ঢাকা-১২ তে। তিনি জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন। এখন দেখার বিষয় শেষ হাসি কোন সাইফুল হাসে!

ঢাকা-১৩ তে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এর পূর্বাভাস। এখানে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করছেন ববি হাজ্জাজ। আর তার বিপরীতে রিক্সা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। এই আসনে ভোটকে প্রভাবিত করার মতো অনেক ফ্যাক্টর থাকায়- কোন প্রার্থী নির্বাচনে জিতবে সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। তাই রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিদের নজর আছে এই আসনের দিকেও।

ঢাকার বাইরে সবচেয়ে আলোচিত আসন ধরতে গেলে- সবার আগে আসবে কুমিল্লা-৪। এই আসন থেকে জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। এই আসনটি ঘটনাবহুল। কারণ- এই আসনে টানা চারবার এমপি ছিলেন বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তথ্য গোপন ও ঋণখেলাপির দায়ে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হয়। তখন একচ্ছত্রভাবে হাসনাত আব্দুল্লাহর দিকে ঝুঁকে যায় ভোটের হাওয়া। পরে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দেয় বিএনপি। এতে আবার সমীকরণ পাল্টে যায়। দেখা যাক , নির্বাচনের ফলাফলে কী আসে!

পঞ্চগড় ১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন এনসিপির আলোচিত নেতা সারজিস আলম। আর তার বিপরীতে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। জমির না সারজিস- কে হচ্ছেন পঞ্চগড় ১ আসনে এমপি। ভোটের ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছেন অনেকেই।

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাননি সাবেক বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। কিন্তু নির্বাচনের মাঠও ছেড়ে দেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তিনি। ঐ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। আরেকজন প্রার্থীও আছেন নির্বাচনের মাঠে। তার নাম তরুণ দে। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব। এই আসনের ফলাফল কী হয় সেটাও দেখতে চায় রাজনীতি সচেতন মানুষেরা।

এসবের বাইরেও যারা ভোটের মাঠে বেশি আলোচনায় ছিলেন তারা হলেন- পটুয়াখালি ৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, খুলনা ১ আসনে জামায়াতের হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, কুষ্টিয়া ৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজা।

নির্বাচনে প্রচারণার সমীকরণ আর ফলাফলের সমীকরণ সবক্ষেত্রে একইরকম নাও হতে পারে। তবে অবশ্যই সবার দেখার আগ্রহ থাকবে ফলাফলের সমীকরণটা কোনদিকে যায়! আমিও দেখার অপেক্ষায় আছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *