মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

সবশেষ

বিদায় বেলাতেও নিজের সুবিধার জন্য আইন পাল্টান ইউনূস

দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নানা সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনায় ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তবে বিদায়ের আগে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে নিজেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) ঘোষণা করার প্রজ্ঞাপন জারি হয়, যার ফলে দায়িত্ব ছাড়ার পরও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) সুরক্ষা পাবেন।

সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা এসআরও নং ২৮৫ অনুযায়ী দায়িত্ব-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে সর্বোচ্চ তিন মাস ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণার বিধান ছিল। নতুন সংশোধনে সেই সময়সীমা এক বছর করা হলেও তা কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য—এমন অভিযোগ উঠেছে।

কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করেননি। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির জন্য আইন পরিবর্তন বা প্রণয়ন করা যায় না। কাজেই ১০ ফেব্রুয়ারি অতি গোপনীয়ভাবে জারি করা অধ্যাদেশটি একদিকে যেমন সংবিধানের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। এটি যেমন অসাংবিধানিক, ঠিক তেমনই ড. ইউনূসের স্বার্থপরতার একটি উদাহরণ। কারণ তিনি যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আগের আইনে বর্ণিত সবার জন্য সময় বাড়াতেন, তাহলেও এর যৌক্তিকতা কিছুটা হলেও বোঝা যেত।
কিন্তু শুধু নিজেকে আগামী এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা কেবল অনৈতিক নয়, সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সমালোচকদের আরও দাবি, দায়িত্ব পালনকালেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুবিধা নিশ্চিত করার প্রবণতা দেখা গেছে। দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, নিজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ কিংবা প্রশাসনিক অনুমোদন—এসব অভিযোগ আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। সর্বশেষ ভিআইপি ঘোষণার বিষয়টি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে দাবি করছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *