মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

সবশেষ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলেই হামলা, হুঁশিয়ারি ইরানের

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে সেখানে চলাচলকারী যেকোনও জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ পথ দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, ‘প্রণালি বন্ধ। কেউ পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিপ্লবী গার্ড ও নিয়মিত নৌবাহিনী সেই জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেবে।’

শনিবার শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

বিপ্লবী গার্ডের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জাবারি আরও বলেন, তেল পাইপলাইনেও হামলা চালানো হবে এবং অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেয়া হবে না। তার দাবি, কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল ঋণে জর্জরিত এবং এ অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল; তাদের কাছে এক ফোঁটা তেলও পৌঁছাবে না বলে জাবারি মন্তব্য করেছেন।

মূলত ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনও বিঘ্ন ঘটলে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সংঘাতের মধ্যে সোমবারই জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচলে বিঘ্ন এবং উৎপাদন স্থাপনায় ক্ষতির কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে। ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি উৎপাদক কাতারএনার্জি তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। আর এর জেরে ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক গ্যাসবাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। কাতারএনার্জি তাদের উৎপাদন স্থগিত করায় ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এশিয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

এর আগে সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়। রাষ্ট্রীয় সৌদি প্রেস এজেন্সিকে এক সামরিক মুখপাত্র জানান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ওই শোধনাগারে দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব কমাতে ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নেবে। তিনি জানান, আগামী দিনগুলোতে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং সম্ভাব্য এ পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *