মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

সবশেষ

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ফের শক্তিশালী হচ্ছে ডলার

ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মতে, অস্থির সময়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলার এখনো তার অবস্থান ধরে রেখেছে।
সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিনব্যাক আবারও তার ঐতিহ্যগত ‘ক্রাইসিস কারেন্সি’—অর্থাৎ সংকটকালে ভরসার মুদ্রা-হিসেবে পরিচিতি ফিরে পাচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডলারের বহুদিনের ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে পরিচিত অবস্থান আবার ফিরে এসেছে। ইরানে সাম্প্রতিক হামলার পর এমন ধারণা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের সাম্প্রতিক শক্ত অবস্থান মূলত আপেক্ষিক জ্বালানি বাজারের গতিবিধির ফল, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের পুরোনো মর্যাদা ফিরে আসার স্পষ্ট প্রমাণ নয়। তবুও বাজারের এই প্রতিক্রিয়ার প্রভাব বেশ গভীর হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই বাজারে অস্থিরতা ও উদ্বেগ বাড়লেও ডলারের শক্তি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। সাধারণত এমন সময়ে ডলার শক্তিশালী হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং একই সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন ডলারকে আর আগের মতো নিঃশর্ত নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখছেন না। বরং জ্বালানি বাজার, সুদের হার এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির তুলনামূলক হিসাব করেই তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে ডলারের সাম্প্রতিক উত্থানকে একক কোনো ‘নিরাপত্তা সংকেত’ হিসেবে না দেখে, বৈশ্বিক অর্থনীতির বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কঝড়ে যে ডলারের ২০২৫ সালের পুরোটা জুড়েই অবমূল্যায়ন হয়েছে, ইরানে হামলার জেরে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় সেই ডলার এখন কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সাত মাসের মধ্যে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ১ শতাংশ বেড়েছে ডলারের মান। দুর্বল হয়েছে ইয়েন, ইউরোর মান।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে সূচকের পতন অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *